ঢাকা, সোমবার ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭  ,
১১:৩৬:৩৬ জানুয়ারি  ০৮, ২০১৭ - বিভাগ: অর্থনীতি


লাগামহীনভাবে বাড়ছে গুঁড়োদুধের দাম

Image

কোনো ধরনের নিয়ম-নীতি না মেনে লাগামহীনভাবে বাড়ানো হয়েছে গুঁড়োদুধের দাম। দেশের প্রথম সারির গুঁড়োদুধ তৈরি কোম্পানিগুলো কোনো ধরনের আগাম সর্তকতা ছাড়াই এই দাম বাড়িয়েছে।


এছাড়া দামও বাড়ানো হয়েছে অস্বাভাবিকভাবে। কেজি প্রতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা বাড়িয়েছে বেশ কয়েকটি কোম্পানি।
রাজধানীর বিভিন্ন সুপার শপ ও খুচরা বিক্রির দোকানগুলোতে ঘুরে এসব চিত্র দেখা যায়।
বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি কেজি মার্কস গুঁড়োদুধ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকায়, যা তিন দিন আগেও ছিলো ৪৪০ টাকা। এছাড়া প্রতি কেজি ফ্রেশ ও ডানো গুঁড়োদুধ যথাক্রমে বিক্রি হচ্ছে ৪৯০ ও ৬১০ টাকায়। কিন্তু গত সপ্তাহেও প্রতি কেজি ফ্রেশ ও ডানো গুঁড়োদুধ বিক্রি হতো যথাক্রমে ৪৪০ ও ৫৮০ টাকায়। ডিপ্লোমা গুঁড়োদুধেও প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা বাড়ানো হয়েছে বলে বিক্রেতারা বলছেন। কিন্তু মূল্য বাড়ানোর নতুন প্যাকেট বাজারে না আসায় তারা সঠিক দাম বলতে পারেননি। একইসঙ্গে হাফ কেজি মার্কস গুঁড়োদুধ ২৩৫ টাকা থেকে ২৭০ টাকা, হাফ কেজি ডানো গুঁড়োদুধ ২৯৫ টাকা থেকে ৩১০ টাকা ও হাফ কেজি ফ্রেশ গুঁড়োদুধ করা হয়েছে ২৩৫ থেকে ২৭০ টাকা।
এদিকে, আগাম সতর্কতা না দিয়ে দাম বাড়ানোয় ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে। উভয়পক্ষ বলছে, এভাবে হঠাৎ দাম বাড়ানোর কারণে তারা বিপাকে পড়েছেন। ক্রেতাদের পকেট খালি হচ্ছে আর বিক্রেতাদের কথা শুনতে হচ্ছে।
রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে মিজান স্টোরের মালিক নিজানুর রহমান বলেন, কোম্পানিগুলো কোনো ধরনের নির্দেশনা ছাড়া দাম বাড়ানোয় আমাদের অনেক সমস্যা হয়েছে। ক্রেতারা এখন আমাদের বলছেন, এতো দ্রুত কিভাবে দাম বাড়ানো হয়েছে। যেহেতু কোম্পানিগুলো আমাদের এ সম্পর্কে আগে কিছু জানায়নি, তাই ক্রেতাদের কোনো সঠিক উত্তর না দিতে পেরে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হচ্ছে।
এ নিয়ে ক্রেতা মেহেরুন শারমিন বলেন, এই কোম্পানিগুলো এক টাকা দাম কমালে সারা দিন টিভিতে প্রচার করে, কিন্তু ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি প্রতি বাড়ানোর আগে ক্রেতাদের একবারও জানায়নি। দুই দিন আগেও ৬০ টাকা কমে মার্কস দুধ কিনেছি। কিন্তু কোম্পানিগুলোর এই সিদ্ধান্তের কারণে এখন সব ক্রেতাদের সমস্যা হচ্ছে।
গুঁড়োদুধ কোম্পানিগুলোর দাম বাড়ানোর সমালোচনা করে বাংলাদেশ কনজিউমার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, আমাদের দেশে কিছু মুনাফালোভী প্রতিষ্ঠান গুঁড়োদুধের বাজারটি নিয়ন্ত্রণ করে। তাই তারা যেকোনো সময় যেকোনো সিদান্ত নিতে পারেন। কেজি প্রতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা দাম বাড়ানো তারা কোন নীতিমালা মেনে করেছেন? তারা দাম বাড়ানোর আগে ক্রেতাদের কি এর সঠিক কোনো ব্যাখ্যা দিয়েছেন? কোনো ধরনের আগাম সতর্কতা ছাড়া এভাবে দাম বাড়ানো অন্যায়। আমি সরকারে কাছে আহ্বান জানাবো, তারা কোন যুক্তিতে এভাবে দাম বাড়িয়েছেন তা জেনে ব্যবস্থা নিতে। 

অর্থনীতি'র অন্যান্য খবর

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি