ঢাকা, মঙ্গলবার ২২ আগস্ট ২০১৭  ,
০৯:৫৩:৩৯ জানুয়ারি  ০৯, ২০১৭ - বিভাগ: রাজনীতি


মোক্ষম সময়ের অপেক্ষায় বিএনপি

Image

পরপর দু’টি আন্দোলনে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন হয়নি বিএনপির। গত ২১ মাস কোনো আন্দোলন-কর্মসূচি নেই দলটির। কবে নাগাদ তারা আন্দোলনে যাবে-তা নিয়েও নানা মহলে চলছে নানা বিশ্লেষণ। কোনো কোনো মহল তীর্যক মন্তব্যও ছুড়ে দিচ্ছে বিএনপির দিকে। আন্দোলনে নামার জন্য কেউ-কেউ উস্কানিও দিচ্ছে দলটিকে।


এমন পরিস্থিতিতে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে সামনের দিকে এগোচ্ছেন তারা। এই মুহূর্তে কোনো ‘হঠকারী’ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই তাদের। বরং ধৈয্য ধরে ‘মোক্ষম’ সময়ের অপেক্ষা করাই শ্রেয় মনে করছেন তারা।

সূত্র মতে, সম্প্রতিকালে সরকারের কঠোর মনোভাবের জবাবে কড়া প্রতিক্রিয়া দেখানোর পরামর্শ নানা মহল থেকেই আসছিলো। দল করেন না, কিন্তু বিএনপিকে সমর্থন করেন- সাধারণ মানুষদের এমন অংশটিও নাকি চাচ্ছিল দু’একটি বড় কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামুক বিএনপি।

বিশেষ করে ৭ নভেম্বর ‘বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ এবং ৫ জানুয়ারি ‘গণতন্ত্র হত্যা’ দিবস উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি না পাওয়ায় কঠোর কর্মসূচির পরামর্শ আসছিল কারো কারো কাছ থেকে।

এছাড়া মুদ্রাপাচার মামলায় উচ্চ আদালত থেকে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সাজার রায় ঘোষণার পর কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার ব্যাপারে প্রচণ্ড চাপ আসছিলো দলটির হাইকমান্ডের ওপর।
গুলশান কার্যালয়ে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতারা তারেক রহমানের সাজা ইস্যুতে কঠোর কর্মসূচি পালনের পক্ষে মত প্রকাশ করেন। কিন্তু তাদের এই মতকে উপেক্ষা করে সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেন বিএনপির চেয়ারপারসন।

৭ নভেম্বর ‘বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ এবং ৫ জানুয়ারি ‘গণতন্ত্র হত্যা’ দিবস উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি না পেয়ে একই কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দেন তিনি।

দলীয় সূত্র মতে, ২০১৫ সালের আগস্ট মাস থেকে তৃণমূল পুনর্গঠন শুরু করলেও গত ষোল মাসে এ কাজ অর্ধেকও শেষ করতে পারেনি বিএনপি। গতবছর জাতীয় কাউন্সিলের পর পুনরায় তৃণমূল পুনর্গঠনে হাত দিয়েছে দলটি।
শেষ খবর পাওয়া পযর্ন্ত ৭৫টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে ৩০টি পুনর্গঠন করতে পেরেছে বিএনপি। বাকি ৪৫টি সাংগঠনিক জেলা পুনর্গঠনের কাজ এ বছর নাগাদ শেষ করার ব্যাপারে আশাবাদী তারা। তৃণমূল পুনর্গঠনের পর আন্দোলনের ‘ফ্রেমওয়ার্ক’ তৈরি করবে বিএনপি। সুতরাং অস্বাভাবিক কোনো ঘটনা না ঘটলে ২০১৭ সালে হরতাল অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচিতে যাবে না বিএনপি।

সরকারের আচরণ যাই হোক না কেন, ২০১৮ সালের অক্টোবরের আগে কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামবে না দলটি। বিএনপির নীতি-নির্ধারকরা যে বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন, সেটি হলো, ‘সময়’ এর আগে আন্দোলনে নেমে শক্তি ক্ষয় করা যাবে না। চাপ প্রয়োগ করে দাবি আদায়ের জন্য সাংগঠনিক শক্তি সঞ্চয়ই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

এমনকি শেরে বাংলানগর থেকে জিয়ার সামাধি সৌধ সরিয়ে দিলেও হরতাল অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচি না দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা বিএনপির। কারণ যে কোনো ইস্যুতে মাঠে নামতে গেলেই বিএনপির নেতা-কর্মীরা গণগ্রেফতারের শিকার হবেন বলে তাদের ধারণা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির শীর্ষ পযায়ের এক নেতা বলেন, ‘আমরা যাই বলি না কেন, দল এখনো পুরোপুরি সংগঠিত নয়। এ অবস্থায় কিছু করতে গেলে দল আরো বিপদে পড়বে। তাই কোনো কিছু করার আগে আমাদেরকে লক্ষ্য স্থির করতে হবে।’
সূত্র মতে, বিএনপির এই লক্ষ্যটা হচ্ছে সরকারের সবরকম আচরণ ‘হজম’ আরো অন্তত দেড় বছর মাটি কামড়ে পড়ে থাকা। দলকে একটা মজবুত ভিতের ওপর দাঁড় করে আগামী নির্বাচনের আগে চূড়ান্ত কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুর ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘অবশ্যই আমরা আন্দোলনে যাবো এবং সে আন্দোলন হবে সময় মতো। এটা ভাবার কোনো কারণ নেই যে, বিএনপি সব কিছু মুখ বুজে সহ্য করবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে অবশ্যই নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানো চেষ্টা করবে বিএনপি।’

রাজনীতি'র অন্যান্য খবর

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি