ঢাকা, বুধবার ২৬ এপ্রিল ২০১৭  ,
২০:২৩:৪৭ জানুয়ারি  ১১, ২০১৭ - বিভাগ: সম্পাদকীয়


অবিলম্বে ডাকসু নির্বাচন দিন

ডাকসুকে বলা হয় নেতৃত্ব সৃষ্টির সূতিকাগার। যারা একসময় ডাকসু নেতৃত্বে ছিলেন তারাই পরবর্তীকালে জাতিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং এখনো দিচ্ছেন। কিন্তু অতীব দুঃখের বিষয়, ২৬ বছর ধরে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।



ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও ঐতিহ্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দেশের প্রতিটি আন্দোলনে পালন করেছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। সৃষ্টি করেছে কালজয়ী ইতিহাস। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সমাজকে আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করেছে ও নেতৃত্ব দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ যা ডাকসু নামে সমধিক পরিচিত। ডাকসু শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সমাজকে নেতৃত্ব দেয়নি, ঢাকা শহরের সমগ্র ছাত্রসমাজকে নেতৃত্ব দিয়েছে। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ যখন জাতিকে সঠিক পথ দেখাতে পারেনি তখন ডাকসু জাতিকে পথ দেখিয়েছে। এ কারণে ডাকসুকে অভিহিত করা হতো দেশের দ্বিতীয় পার্লামেন্ট হিসেবে। বায়ান্ন’র ভাষা আন্দোলনে ডাকসু পালন করেছে এক ঐতিহাসিক ভূমিকা। পাকিস্তান আমলে একনায়ক আইউব খানের সামরিক শাসন যখন জগদ্দল পাথরের মতো জাতির বুকে চেপে বসেছিল তখন রাজনৈতিক নেতৃত্ব কোনো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করতে পারেনি। তখন ডাকসুর নেতৃত্বেই ছাত্রসমাজ বাষট্টি সালে সামরিক আইনের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন শুরু করেছিল। উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে ডাকসু পালন করেছিল অগ্রণী ভূমিকা। এই গণঅভ্যুত্থানের কারণেই আইউব খান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন। একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধে ডাকসু নেতৃত্ব যে বিরোচিত ভূমিকা পালন করে তা জাতি কোনোদিন ভুলবে না। স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারকে উৎখাত করার আন্দোলনেও ডাকসু পালন করেছিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
ডাকসুকে বলা হয় নেতৃত্ব সৃষ্টির সূতিকাগার। যারা একসময় ডাকসু নেতৃত্বে ছিলেন তারাই পরবর্তীকালে জাতিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং এখনো দিচ্ছেন। কিন্তু অতীব দুঃখের বিষয়, ২৬ বছর ধরে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। ১৯৯০ সালের ৬ জুন সর্বশেষ ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়ার কারণে দেশে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরি হচ্ছে না। ডাকসু শুধু ছাত্রদের নেতৃত্বই দেয় না, তাদের বিভিন্ন অভাব-অভিযোগ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাথে দেন-দরবার করে। কিন্তু এখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা না করেই পরীক্ষার ফিসহ অন্যান্য ফি নির্ধারণ করে থাকে। শিক্ষার্থীরা মনে করেন, ডাকসু নির্বাচন না হওয়ার কারণে একদিকে গণতান্ত্রিক বিকাশ রুদ্ধ হচ্ছে, অন্যদিকে সাংস্কৃতিক বিকাশও তেমন হচ্ছে না। শুধু ডাকসু নয়, দেশের কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। বর্তমানে দেশের সবচাইতে ঐতিহ্যবাহী দল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত। কিন্তু তারপরও ডাকসু কিংবা অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদের নির্বাচন কেন অনুষ্ঠিত হচ্ছে না তা বোধগম্য নয়। দেশে যোগ্য নেতৃত্ব সৃষ্টি এবং গণতন্ত্রের সঠিক চর্চার স্বার্থে ডাকসুসহ সকল বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচন অবিলম্বে অনুষ্ঠিত করার জন্য সরকারের প্রতি আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি।


সম্পাদকীয়'র অন্যান্য খবর

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি