ঢাকা, মঙ্গলবার ২২ আগস্ট ২০১৭  ,
২০:২৪:৫৩ জানুয়ারি  ১১, ২০১৭ - বিভাগ: সম্পাদকীয়


বই উৎসবে সামান্য চোখের জল

বিনামূল্যে পাঠ্য বই দেয়া শুরু হয় ২০০৯ সাল থেকে। মূল্যের সিংহভাগ সরকার দিলেও বিশ্বব্যাংকের শর্তের কারণে প্রায় প্রতি বছরই কোন না কোন ঝামেলা তৈরি হচ্ছে। সরকারের উচিত হবে আগামীতে বিশ্বব্যাংকের কোনো অর্থ না নেয়া


প্রতি বছর জানুয়ারির প্রথম দিনে সারা দেশজুড়ে বই উৎসব হয়। বিনামূল্যের ছাপানো বই পৌঁছে যায় ছাত্রছাত্রীদের হাতে। নতুন বই পাবার আনন্দে ঝলমল করে ওঠে শিশু কিশোরদের চোখ মুখ। বেশ ক’বছর ধরে এরকম ছবি দেখতে দেখতে আমরা অভ্যস্ত হয়ে উঠেছি। শিশু কিশোরদের মুখের এই অমলিন হাসিটি নিঃসন্দেহে নতুন বছরের সবচেয়ে বড় পাওনা।
চলতি বছরেও সারা দেশ জুড়ে একসাথে বই উৎসব হল। আনন্দে মাতল লক্ষ লক্ষ শিশু কিশোর। কিন্তু সে হাসির স্পর্শ লাগেনি লক্ষ্মীপুর, বৃহত্তর নোয়াখালী ও চট্টগ্রামের  ৩০টি উপজেলার শিশুদের মনে। কারণ, তাদের হাতে মাসের নয় তারিখেও নতুন বই এসে পৌঁছায়নি। আর এরকম ঘটনার জন্য বিশ্বব্যাংকের নাম উঠে আসছে ঘুরে ফিরে। জানা গেছে, প্রাথমিকের বই ছাপাতে মোট যে টাকা ব্যয় হয় তার মাত্র ৯ শতাংশ ঋণ হিসেবে বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে পাওয়া যায়। টাকার অঙ্কে এর পরিমাণ মাত্র ২৬ কোটি। টাকা দেয়ার সাথে সাথে বিশ্বব্যাংক কিছু শর্তও যুক্ত করে। তাদের শর্ত অনুযায়ী আন্তর্জাতিক টেন্ডারে বই ছাপতে হয়। এবার ভারতের একটি মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠান এরকম আন্তর্জাতিক টেণ্ডারে বই ছাপার সুযোগ পেলেও শর্তের বরখেলাপ করে এখনো ৪৭ লাখ কপি বই বুঝিয়ে দেয়া থেকে বিরত রয়েছে। ওই বই কবে নাগাদ পাওয়া যাবে তাও নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছে না। তাদের কাজ দেওয়ার আগে স্বয়ং জাতীয় পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান ওই প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করেছিলেন। বিশ্বব্যাংকের এই আবদার রাখতে গিয়ে এবার বহু ছেলে মেয়ের হাতে যথাসময়ে বই তুলে দিতে পারল না এনসিটিবি।
প্রায় ৩০টি উপজেলায় যথাসময়ে বই দিতে না পারায় চরম বিব্রতকর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শ্রেণিতে কোথাও একটি, কোথাও দুটি বই বিতরণ করে অবস্থা সামাল দেয়ার চেষ্টা করা হলেও তা কাজে আসছে না। প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ওই সব স্কুলে কোনো শ্রেণিতে বাংলা, কোনো শ্রেণিতে ইংরেজি, কোনো শ্রেণিতে অঙ্ক আবার কোথাও ধর্ম বই বিতরণ করেছে। বেশির ভাগ স্কুলেই প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণিতে মাত্র একটি করে, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে দুটি করে বই দেওয়া হয়েছে। সব বই হাতে না পাওয়ায় শিক্ষকরা পুরোদমে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করতে পারছেন না।
বিনামূল্যে পাঠ্য বই দেয়া শুরু হয় ২০০৯ সাল থেকে। মূল্যের সিংহভাগ সরকার দিলেও বিশ্বব্যাংকের শর্তের কারণে প্রায় প্রতি বছরই কোন না কোন ঝামেলা তৈরি হচ্ছে। সরকারের উচিত হবে আগামীতে বিশ্বব্যাংকের কোনো অর্থ না নেয়া। ৯১ শতাংশ অর্থ সরকার যোগাতে পারলে বাকি ৯ শতাংশও তার পক্ষে যোগানো সম্ভব হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।


সম্পাদকীয়'র অন্যান্য খবর

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি