ঢাকা, শনিবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭  ,
২০:৩১:০২ জানুয়ারি  ১১, ২০১৭ - বিভাগ: উপ-সম্পাদকীয়


শিশু চিত্রকলা প্রদর্শনী

আনোয়ার হোসেন



লেখক: সাবেক পরিচালক ডিজাইন, বিটিভি


গেন্ডারিয়া কিশলয় কচি-কাঁচার মেলা পরিচালিত কিশলয় চারুকলা কেন্দ্রের ২০১৫ সালের বার্ষিক চিত্রপ্রদর্শনীর বিশেষ অতিথি হয়ে উদ্বোধন করতে যাত্রা শুরু করি এবং সঠিক সময়ে পৌঁছে যাই শুভ স্বর্ণউজ্জ্বল প্রভাতে।
উষ্ণ অভ্যর্থনার মধ্যে মাঠে প্রবেশ করতেই শিশু কিশোরদের কোলাহলের আনন্দ থারায় øাত হয়ে সব অস্থিরতা ধুয়ে মুছে øিগ্ধ হয়ে মঞ্চে উপস্থিত সকল সুধীদের সাথে আসন গ্রহণ করি। মাঠের সাজ সজ্জাও ছিল শিশুদের মত আনন্দ মুখর। এর পর কিছু বলে আনন্দ উষ্ণ করতালির মধ্যে দিয়ে পুরস্কার বিতরণ করা হয় একে একে কয়েক জনে মিলে। আমি স্বরচিত ছোট্ট একটি কবিতা পাঠ করি। তার কয়েকটি পংক্তি তুলে দিলাম। শিশুরা ভোরের সূর্য, বিশ্বের বিস্ময়, নির্মল-নির্ভয়। এদের জন্য সকল সৃষ্টি/ জ্ঞান-বিজ্ঞান-সাহিত্য কৃষ্টি/ প্রীতি-ভালবাসা/ আলোকিত পৃথিবীর আশা। এদের হত্যা করে যারা/ মানব শত্র“, নরপশু তারা। শিশুদের বাঁচাতে হবে, জীবনের পথে/ হিংসা-সন্ত্রাস-যুদ্ধ-মহামারী হতে। দাও এদের মুক্ত পরিবেশ/ এরাই গড়বে নতুন পৃথিবী নতুন স্বদেশ।
এরপর শিশুদের আঁকা ছবির প্রদর্শণী। হেঁটে হেঁটে, দেখতে দেখতে শিশুদের মনের গভীরের আনন্দ প্লাবনে ভেসে যাই নানা রঙে নানা ঢঙ্গে আঁকা শিশুদের মুক্ত প্রাণের সমুজ্জ্বল চিত্রমালায়। প্রতিটি ছবিতেই নিবিষ্ট মনের ছাপ মেলে। কোনোটি উজ্জ্বল রং বিন্যাসে সদা হাস্যময়। কোনোটি রঙে রঙে মিশে সখ্যতার বাধনে নিমগ্ন। কোথাও কালো রেখার বলিষ্ঠ স্পর্শে দীপ্তমান। কোমলমতি শিশুদের তুলির কোমল পরশ শান্তির øিগ্ধতা এনে দেয়। মন বলে উঠে ওহ! কি সুন্দর। কোথাও নদীতে পালতোলা নৌকা ছুটে চলেছে, কানে ভেসে আসছে মাঝির গান। কোথাও গাছের ডালে হলদে পাখী। কদম ফুল ফুটে আছে গাছে। কাশফুলের দোলায় মন নেচে উঠছে। রাখাল বাঁশি বাজাচ্ছে, খেজুর রসের হাড়ি। নিবিষ্ট মনে আঁকতে আঁকতে রঙের খেলা খেলতে খেলতে প্রাণের গভীর সৌন্দর্যবোধ, প্রকৃতির প্রতি গভীর ভালবাসা তৈরী হচ্ছে। রঙে রঙে øাত হয়ে অজান্তেই প্রাণের গভীরে কোষে কোষে জমা হয় সর্ব মানবিক কল্যাণবোধ। আর এই চৈতন্য ও সৌন্দর্যবোধই তাকে সামাজিক অনাচার অমঙ্গল থেকে রক্ষায় এগিয়ে আসে। এটাই চিত্রকলার ও অঙ্কনচর্চার মাহাÍ্য। আর এই মহৎ কাজটি যারা করেন স্ব-উদ্যোগে নিবিষ্ট মনে সেইসব সংগঠকদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা। সোনার মানুষ গড়তে হলে এদের থেকেই শুরু করতে হবে। সংগঠকদের নিয়ে রাষ্ট্রিয় পর্যায় ভাবতে হবে। ভাবতে হবে মঙ্গলময় বিশ্ব আলোকে তাদেরকে গড়ে তোলার ভাবনা। কারণ স্ব-নিবেদিত গুরুত্বহীন এই সংগঠকদের গুরুত্ব সমাজে অপরিসীম।
অনুষ্ঠান শেষে, আনন্দের রেশ নিয়ে, সজীব প্রাণে ফিরে এলাম বাড়িতে। বেশ কয়েক দিন পরে এই প্রদর্শনীর একটি ক্যাটালগ পেলাম। পাঠিয়েছেন উপদেষ্টা মোঃ জালাল উদ্দিন, ক্যাটালগের পাতায় পাতায় ছবি দেখে আনন্দিত হয়েছি। ক্যাটালগের চিত্র বিন্যাস অতি সুন্দর হয়েছে। এ উৎসাহেই এই লেখা।
উপদেষ্টা মোঃ জালাল উদ্দিন এবং যুগ্ম পরিচালক আবু তাহের বকুল আমার øেহের ছোট ভাই এর মত। এরা স্ব স্ব ক্ষেত্রে সুনামের সাথে এগিয়ে যাবে এটাই কাম্য। এ ছাড়া যারা এই অনুষ্ঠানের সাথে জড়িত তাদেরকে শ্রদ্ধায়-øেহে আনন্দে বুকে জড়িয়ে নিলাম। নিবেদিত প্রাণের পরিচালক মোহাম্মদ শফিউর রহমান দুলু এবং এখনও লেগে থাকা উপদেষ্টা কাউন্সিলর শহিদুল্লাহ মিনু ভাইকে অনিঃশেষ অভিনন্দন। প্রয়াত পরিচালক আলাউদ্দিন ভুঁইয়ার প্রতি রইলো গভীর শ্রদ্ধা। সংগঠনের অব্যাহত জয় হোক।


উপ-সম্পাদকীয়'র অন্যান্য খবর

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি