ঢাকা, শনিবার ২৫ মার্চ ২০১৭  ,
১৫:১০:৪১ জানুয়ারি  ১২, ২০১৭ - বিভাগ: জাতীয়


শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে তদন্তের ক্ষমতা চায় মানবাধিকার কমিশন

Image

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লংঘনের অভিযোগের তদন্ত করার ক্ষমতা চায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। এ জন্য কমিশন আইনের সংশোধনী দরকার বলে মনে করেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক।


 

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক ঘটনা তদন্ত করতে পারি না। আইনে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আইনের একটি ধারায় রয়েছে শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত করতে হলে সরকারের অনুমতি লাগবে। কিন্তু অনেক অভিযোগের তদন্ত করতে পারে না মানবাধিকার কমিশন।’

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠার আগেই এর আইন নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন মানবাধিকার কর্মীরা। সংবিধানে শৃঙ্খলা বাহিনী হিসেবে যাদেরকে চিহ্নিত করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লংঘনের অভিযোগের কোনো প্রতিকার করতে পারে না সংস্থাটি। আবার মানবাধিকার কমিশন কোনো ঘটনার তদন্ত করে সরকারকে সুপারিশ দিলে সেটির বাস্তবায়নের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এসব কারণে গত প্রায় ১০ বছরেও মানবাধিকার কমিশন প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি।

কমিশনের চেয়ারম্যান মনে করে, তাদের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী যেন ব্যবস্থা নেয়া হয়, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি জানান, এরই মধ্যে তারা আইনের কিছু সংশোধনীর প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছেন। এটি আইন মন্ত্রণালয়কে দেয়া হবে।

অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে কী প্রস্তাব দেয়া হয়েছে-জানতে চাইলে কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, ‘কমিশনের নিজস্ব জমি নেই। ভবন নেই। এটি দরকার। এসব নিয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া আমাদের জনবল খুবই কম। মাত্র ৪৮ জন। আমরা ১৪১ জন জনবল চেয়ে আবেদন করেছি। আর বাজেটও কম। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে ৬৪১ জন জনবল নিয়ে মানবাধিকার কমিশন গঠন হয়েছে। তাদের বাজেটও বিশাল। এসব বিষয় অর্থমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হয়েছে।’

দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাইলে কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, ‘২০১৬ সালটি বিশ্ব মানবাধিকারের জন্যও ভাল যায়নি। সেই প্রভাব আমাদের দেশেও পড়েছে। যেমনটি ঘটেছে মিয়ানমারের রাখাইনদের নিয়ে।’ তিনি বলেন, ‘শিশু রাজন এবং রাকিব ঘটনার কিন্তু কঠোর শাস্তি হয়েছে। কিন্তু অনেক ঘটনাই তো ঘটছে কিছু হচ্ছে না। শিশুরা ধর্ষণের স্বীকার হচ্ছে। মার খাচ্ছে।’

এসব বন্ধে জনসচেতনতা দরকার জানিয়ে মানবাধিকার কমিশন চেয়ারম্যান বলেন, ‘মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। অপরাধের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’


জাতীয় 'র অন্যান্য খবর

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি