ঢাকা, বুধবার ১৬ আগস্ট ২০১৭  ,
১০:২২:২৭ ফেব্রুয়ারি  ১৪, ২০১৭ - বিভাগ: ইসলাম


ইসলামের আলোকে গিবত

Image

অসাক্ষাতে দুর্নাম বা কারও দোষ বলাকে ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায় গিবত বলে। অর্থাৎ কোনো মানুষের অনুপস্থিতিতে তার সম্পর্কে এমন কথা বলা, যা শুনলে সে মনে কষ্ট পায়, তাকেই গিবত বলে।

কুরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমরা একে অন্যের গিবত কর না। তোমাদের মধ্যে কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের মাংস ভক্ষণ করতে পছন্দ কর? বস্তুত, তোমরা তো একে ঘৃণাই কর’ (হুজরাত : ১২)।

এই অত্যন্ত ক্ষতিকর বদ অভ্যাসকে এভাবে মৃত ভাইয়ের গোস্ত খাওয়ার সঙ্গে কুরআনে তুলনা করা হয়েছে।
গিবতকারীকে সমাজে কেউ বিশ্বাস করে না। যে গিবত করে সে সমাজের মধ্যে হিংসা-বিদ্বেষ ও শত্রুতার সৃষ্টি করে। ফলে সমাজের কেউ তাকে বিশ্বাস করে না, ভালোবাসে না, বিপদে পড়লে কেউ এগিয়ে আসে না। বরঞ্চ সবাই তাকে সন্দেহের চোখে দেখে। কোনো ব্যাপারে কেউ তার ওপর আস্থা স্থাপন করতে পারে না।

রাসুলুল্লাহ (সা.) হাদিসে বলেছেন, ‘যার মধ্যে কোনো দোষ-ত্রুটি আছে তা অপরের কাছে তার অগোচরে বর্ণনা করাই গিবত। তুমি যা বল তা যদি তার মধ্যে বিদ্যমান থাকে তাহলেই সেটা হবে গিবত। আর যা বল তা যদি তার মধ্যে না থাকে, সে ক্ষেত্রে সেটা হবে বুহতান বা অপবাদ।’

গিবতের ব্যাপারে হজরত মোহাম্মদ (সা.) কঠোরভাবে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি ইরশাদ করেন, ‘তোমরা গিবত কর না এবং তাদের দোষ অনুসন্ধান কর না। কারণ যে ব্যক্তি মুসলমানদের দোষ অনুসন্ধান করে আল্লাহ তার দোষ অনুসন্ধান করেন। আল্লাহ যার দোষ অনুসন্ধান করেন তাকে স্বগৃহেও লাঞ্ছিত করেন’ (কুরতুবি)।

গিবতের কুফল বর্ণনা করে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘মিরাজের রাতে আমি কিছু লোককে দেখলাম, তাদের তামার নখ রয়েছে এবং তা দিয়ে তারা নিজেদের মুখমণ্ডল ও বুক আচড়াচ্ছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে জিবরাইল, এরা কারা? তিনি বললেন, এরা সেসব লোক যারা মানুষের গিবত করত এবং তাদের ইজ্জত-সম্ভ্রম নিয়ে ছিনিমিনি খেলত’ (আবু দাউদ)।
হাদিস শরিফে হজরত রাসুল (সা.) গিবতকে জ্বলন্ত কাঠের সঙ্গে তুলনা করে এ গর্হিত কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি ইরশাদ করেন, ‘আগুন যেমন কাঠ খণ্ডকে জ্বালিয়ে দেয়, হিংসা ও গিবত তেমনি নেকিগুলোকে জ্বালিয়ে দেয়।’ শুধু তাই নয়, এ গিবত এমন একটি জঘন্য অপরাধ, যা প্রতিপক্ষের মাফ করে দেওয়া ছাড়া মাফ হয় না।

মহানবী (সা.) মুমিনদের গিবত ত্যাগ করে আল্লাহর প্রকৃত বান্দা হওয়ার নির্দেশ প্রদান করেছেন। মহানবী (সা.) ইরশাদ করেন, ‘তোমরা গিবত করবে না, গুপ্তচরবৃত্তি করবে না। পরস্পর কলহ-বিবাদ করবে না। হিংসা-বিদ্বেষ করবে না। অন্যের ক্ষতি সাধনে কৌশল অবলম্বন করবে না। তোমরা মহান আল্লাহর প্রকৃত বান্দা ও পরস্পর ভাই ভাই হয়ে যাও।’

হজরত জাবেরের (রা.) বর্ণনায় রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, গিবত ব্যভিচারের চেয়েও মারাত্মক গোনাহ। সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন, এটা কিরূপে? তিনি বললেন, একব্যক্তি ব্যভিচার করার পর তওবা করলে তার গোনাহ মাফ হয়ে যায়, কিন্তু যে গিবত করে তার গোনাহ প্রতিপক্ষ মাফ না করা পর্যন্ত মাফ হয় না (মাজহারি)।

এ হাদিস থেকে প্রমাণিত হয়, গিবতের মাধ্যমে আল্লাহর হক ও বান্দার হক উভয়ই নষ্ট করা হয়। তাই যার গিবত করা হয়, তার কাছ থেকে মাফ নেওয়া জরুরি। কোনো কোনো আলেম বলেন, যার গিবত হয়, গিবতের সংবাদ তার কাছে না পৌঁছা পর্যন্ত বান্দার হক হয় না। তাই তার কাছ থেকে ক্ষমা নেওয়া জরুরি নয় (রুহুল মায়ানি)।

গিবতের মধ্যে কোনো প্রতিরোধকারী থাকে না। নীচ থেকে নীচতর ব্যক্তি কোনো উচ্চতর ব্যক্তির গিবত অনায়াসে করতে পারে। এসব কারণে গিবতের নিষেধাজ্ঞার ওপর অধিক জোর দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মুসলমানদের জন্য অপরিহার্য করা হয়েছে যে, কেউ গিবত শুনলে তার অনুপস্থিত ভাইয়ের পক্ষ থেকে সাধ্যানুযায়ী প্রতিরোধ করবে। প্রতিরোধের শক্তি না থাকলে কমপক্ষে তা শ্রবণ থেকে বিরত থাকবে।



ইসলাম'র অন্যান্য খবর

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি