ঢাকা, বুধবার ২২ মার্চ ২০১৭  ,
২১:৫৩:৫২ ফেব্রুয়ারি  ১৬, ২০১৭ - বিভাগ: রাজশাহী


অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত মেহেদীর চিকিৎসার দায়িত্ব নিল সমাজসেবা দফতর

Image

রানীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি

নওগাঁর রানীনগর উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের ৯ বছর বয়সের মেহেদী হাসান। জন্মের পর থেকে অজানা জটিল চর্মরোগে রোগে আক্রান্ত। মেহেদীর বাবা গরিব ভ্যানচালক গত এক বছর থেকে চিকিৎসা করতে পারেননি। এতে মেহেদীর শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। এ নিয়ে গত বছর নভেম্বরের মাঝামাঝি বিভিন্ন পত্রিকার একটি সংবাদ প্রচার হয়। সংবাদ প্রচার হওয়ায় পর তাদের সহযোগিতায় এগিয়ে এসে অনেকেই নামমাত্র সহযোগিতা করেন। এ অবস্থায় সরকরি খরচে মেহেদীর চিকিৎসার দায়ভার নেন সমাজসেবা অফিসের ডিজি। সমাজসেবা অফিসের উদ্যোগে গত ১২ ফেব্রুয়ারি রোববার বিকেলে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। মেহেদীর অসহায় বাবা আবুল কালামের বাড়ির ভিটেমাটি আর একটি ভ্যান ছাড়া নেই কোনো সম্পত্তি। আবুল কালাম ও তার পরিবারের কেউ পাননা কোনো সরকারি সুযোগ-সুবিধা। মেহেদীর মা জাহানার বেগম জানান, জন্মের পর থেকেই অজানা চর্মরোগে মেহেদীর শরীর ধবধবে সাদা। জন্মের ১৫-১৬ দিন পর থেকেই মেহেদীর শরীরে হাত-পায়ে ফাটা ও চর্চারা (এক ধরনের প্রলেপ) দেখা দেয়। দিন যায় আর মেহেদীর অস্থিরতা বাড়তে থাকে। এরপর শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফেটে যাওয়া শুরু করে। মেহেদী হাসানের বাবা আবুল কালাম আজাদ জানান, সংবাদ প্রকাশের পর জেলা প্রশাসক, স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এগিয়ে আসেন। এ সময় মেহেদীর চিকিৎসার জন্যে প্রায় ২৫ হাজার টাকা সহযোগিতা পাওয়া যায়। এ ছাড়াও প্রশাসনিকভাবে মেহেদীর চিকিৎসার জন্য সকল ব্যয় করার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা রক্ষা করেননি। বর্তমানে মেহেদীর শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় চলাফেরাও করতে পারে না। শরীরের বিভিন্ন অংশ ফেটে পুঁজ ও রক্ত রেব হয়। সোজা হয়ে চলাফেরা করতে পারে না। আক্রান্ত মেহেদী হাসান মেহেদী জানান, শরীরের বিভিন্ন অংশে ফেটে গিয়ে জ্বালা করে রক্ত বের হয়। এতে কষ্ট হয়। নিজে খেতেও পারে না। পড়াশোনার ইচ্ছে থাকলেও পড়তেও পারে না মেহেদী। স্থানীয় গোনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হাসানাত খান হাসান জানান, ওই শিশুটিকে দ্রুত প্রতিবন্ধী ভাতা ও ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তাদের পরিবারকে কোনো সহযোগিতা দেওয়ার সুযোগ থাকলে তা দেওয়া হবে। জেলার সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক এসএম জুবাইদুল ইসলাম জানান, মেহেদীর অসুখের তথ্য পেয়ে সমাজসেবা কার্যালয়ের অফিসের ডিজির নির্দেশে সরকারিভাবে তার চিকিৎসার ব্যয় বহনের সিদ্ধান্ত নিয়ে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রানীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা, ডা. এসএম নজমুল আহসান জানান, মেহেদী জন্মগত জটিল চর্মরোগে আক্রান্ত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানে তার বাবা তাকে চিকিৎসা দিয়েছেন। ওষুধ খাওয়ানোর সময় তার এই রোগ নিয়ন্ত্রণে থাকে। কিন্তু মেহেদীর বাবা গরিব হওয়ায় ১২ মাস ওষুধ খাওয়াতে পারে না। এতে রোগ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তবে উন্নত চিকিৎসাসেবা পেলে মেহেদী ভালো হবে এমনটি আশা ব্যক্ত করেন এই চিকিৎসক।


রাজশাহী'র অন্যান্য খবর

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি