ঢাকা, বুধবার ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭  ,
১০:২৫:২১ ফেব্রুয়ারি  ১৭, ২০১৭ - বিভাগ: আন্তর্জাতিক


যোগাযোগের বাধা কমিয়ে আনতে চায় চার দেশ

Image

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে অভ্যন্তরীণ পণ্য পরিবহন ব্যবস্থার উন্নতি হলেও নেপাল বা ভুটানের সঙ্গে এ রকম উন্নতি হয়নি। যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এখনো অনেক বাধা আছে। সে বাধা কমিয়ে আনার চেষ্টা করবে ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটান।

আজ বৃহস্পতিবার আঞ্চলিক পরিকাঠামো বাংলাদেশ-ভুটান-ভারত-নেপাল সংযুক্তির (বিবিআইএন) বিজনেস ফোরামের উদ্বোধনী দিনে বক্তারা এ কথা বলেন। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে কলকাতার একটি হোটেলে দুদিনব্যাপী ওই ফোরামের আয়োজন করা হয়।  

বৈঠকে চার দেশের প্রায় ৯০ জন ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, কাস্টমস এবং দূতাবাস কর্মকর্তারা অংশ নিয়েছেন। নিজেদের মধ্যে বাণিজ্য বাড়ানোর লক্ষ্যে এই চার দেশ কয়েক বছর আগে জোট বাঁধলেও প্রত্যাশামতো বাণিজ্যের প্রসার বাড়েনি। মূলত এ কারণেই ওই ফোরামের আয়োজন করা হয় বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।

বৈঠকের প্রথম দিনে বক্তারা জানান, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে অভ্যন্তরীণ পণ্য পরিবহন ব্যবস্থার উন্নতি ঘটলেও নেপাল কিংবা ভুটানের সঙ্গে সেই উন্নতি এখনো সম্ভব হয়নি। ফলে ব্যবসায়িক সুফল থেকে নেপাল ও ভুটান যাতে পিছিয়ে না পড়ে সেই বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয় বৈঠকে। এ ছাড়া আগামী দিনে কীভাবে চার দেশ সমপর্যায়ে কাছাকাছি এসে ব্যবসার সম্প্রসারণ ঘটাতে পারে সে বিষয়েও আলোচনা হয়।

বৈঠকে ভারতের কলকাতা কাস্টমস অব রিজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি ও ইন্দো-বাংলাদেশ ট্রাক কাস্টমসের চেয়ারম্যান রাজু গোস্বামী বলেন, ‘ভারতের পেট্রাপোলসহ চারটি সীমান্তপথে বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার মধ্যে পেট্রাপোল স্থলবন্দরকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ওই সীমান্ত দিয়ে ভারত-বাংলাদেশ-নেপাল-ভুটানের মধ্যে সরাসরি পণ্যবাহী গাড়ি যাতায়াতের ক্ষেত্রে অনেক বাধা এখনো রয়েছে। তাই আমরা চার দেশের তরফে আলোচনার মাধ্যমে সেই বাধা দূর করার চেষ্টা করছি।’

রাজু গোস্বামী আরো বলেন, ‘আমরা মূলত সচেতনতার ওপর জোর দিচ্ছি। তা সে কাস্টমস সচেতনতা হোক কিংবা ট্রেড কোম্পানিগুলোর সচেতনতা হোক। আসলে এই বাণিজ্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সর্বস্তরে সচেতনতা বাড়াতে আমাদের বৈঠক চলছে। গত দুই বছর ধরে এই ধরনের বৈঠক করছি। আগামী দিনেও করতে হবে। কারণ, চালকদের জিপিএস সিস্টেমের মাধ্যমে রুট নির্ণয়, ভাষা সমস্যা কাটিয়ে তোলা এবং শিক্ষার মান বাড়াতে হবে। সেই লক্ষ্যেই এই ধরনের বৈঠক।’

বাংলাদেশ কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম আখতার হোসেন বলেন, ‘বিবিআইএনের এই বৈঠকে মূলত চার দেশের মধ্যে কোন কোন রুটে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য হবে, কীভাবে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি ঘটানো যায় সেসব বিষয় নিয়েই আলোচনা চলছে। চার দেশের সরকার এবং যাঁরা ট্রেড করেন, তাঁদের সঙ্গেও আলোচনা করে যাতে ভালো ফল পাওয়া যায়, সে লক্ষ্যেই এগুনো হচ্ছে।’

বেনাপোল সিএস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক লতা বলেন, ‘বেনাপোল-পেট্রাপোলে আমদানি-রপ্তানি আগের থেকে অনেকটাই বেড়েছে। তবে পরিকাঠামো সেভাবে বাড়েনি। কিছু ঘাটতি রয়েছে। আনন্দের কথা হলো, এ বিষয়ে ভারত-বাংলাদেশ দুই দেশের সরকারই নজর দিয়েছে।’


আন্তর্জাতিক'র অন্যান্য খবর

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি