ঢাকা, সোমবার ২৬ জুন ২০১৭  ,
১৯:১০:০১ ফেব্রুয়ারি  ১৭, ২০১৭ - বিভাগ: সম্পাদকীয়


অলস অর্থের সদ্ব্যবহার

মনে রাখা উচিত, এই অর্থের পুরো মালিক জনগণ। আমরা আশা করি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অলস অর্থ নিয়ে তা ব্যবহার করে আবারো সুদসহ সেই অর্থ সরকার ব্যাংকে ফেরত দেবে। সরকারের অর্থ স্বচ্ছভাবে ব্যবহারের জবাবদিহিতার সংস্কৃতি আমাদের খুবই কম




খ বরে প্রকাশ সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পড়ে থাকা রিজার্ভের অলস অর্থ দিয়ে ‘সার্বভৌম সম্পদ তহবিল’ গঠন করতে যাচ্ছে। রিজার্ভের খাত থেকে পাঁচ বছরে দশ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করে এই তহবিল গঠন করা হবে। দেশের মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে এই অর্থ ব্যবহার হবে। কর্মকর্তারা বলছেন, এই তহবিল থেকে অর্থ নেয়া হলে এর সুদ বাংলাদেশ ব্যাংকই পাবে। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক লাভবান হবে। বিদেশী বিনিয়োগ ও ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা কমে আসবে। মেগা প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন হবে। ব্যাংকে পড়ে থাকা অলস অর্থগুলো উন্নয়নমূলক কাজে আসবে।
সত্যি বলতে কি, দেশে বেশ কয়েক বছর ধরে বিদেশী বিনিয়োগ আশাতীতভাবে হচ্ছে না বললেই চলে। একটি দেশে বিদেশী বিনিয়োগ সে দেশের উন্নয়ন কাঠামোকে উর্ধমুখী করে তুলতে যথেষ্ট প্রভাব রাখে। নতুন কর্মখাত সৃষ্টি করে। কিন্তু গত কয়েক বছরে ভারত, রাশিয়া, চীন জাপানসহ মুষ্টিমেয় দেশ সীমিত কয়েকটি খাতে বিনিয়োগ করেছে। এসব বিনিয়োগের অর্থে প্রকল্প বাস্তবায়নে বেশ সমস্যাও সৃষ্টি হয়। এ ছাড়াও সরকার প্রতি বছর একনেক বৈঠকে যেসব নতুন নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছিলেন, ঠিক সময়ে অর্থ ছাড়ের অভাবে প্রকল্পগুলো মুখ থুবড়ে পড়ে। প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্প হিসেবে চিহ্নিত করেও এসব প্রকল্প গতিশীল করা যায়নি। মূলতঃ অর্থাভাবই এর প্রধান কারণ।
কোন দেশের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হয় সরকারের সে বছরের অর্জিত কর থেকে। আবার এই করের অর্থেই সরকার তার কর্মচারী ও দেশের সরকারি ব্যয় নির্বাহ করে থাকে। কিন্তু গত কয়েক বছরে বর্তমান সরকারের অর্থমন্ত্রী ও অন্যান্য দপ্তরগুলো কর আদায়ে ষাট শতাংশও সফলতা অর্জন করতে পারেনি। প্রতিবছর বাজেট পাশ হবার পরও পরবর্তীতে সে বাজেটের সংশোধনী বাজেট আবারো পাশ করতে হয়েছে অর্থমন্ত্রীকে।
সরকারের সার্বভৌম সম্পদ তহবিল গঠন দেশের আর্থিক উন্নয়নে একটি বড় পদক্ষেপ রাখবে বলে সবারই মনে হচ্ছে। তবে এ তহবিলটির দক্ষ ব্যবহার ও ব্যবহারের পর এর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রতি সরকারের নিজেকেই দায়বদ্ধ থাকতে হবে। মনে রাখা উচিত, এই অর্থের পুরো মালিক জনগণ। আমরা আশা করি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অলস অর্থ নিয়ে তা ব্যবহার করে আবারো সুদসহ সেই অর্থ সরকার ব্যাংকে ফেরত দেবে। সরকারের অর্থ স্বচ্ছভাবে ব্যবহারের জবাবদিহিতার সংস্কৃতি আমাদের খুবই কম। যদি স্বচ্ছভাবে এসব অর্থ ব্যয় করা হয় এবং সুষ্ঠু জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারে সরকার, তাহলেই জনগণের সঞ্চিত এই আমানত থেকে সরকার সার্বভৌম সম্পদ তহবিল গঠন করে তা মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে কাজে লাগাতে পারে।



সম্পাদকীয়'র অন্যান্য খবর

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি