ঢাকা, বুধবার ২২ মার্চ ২০১৭  ,
১৯:১০:৪৯ ফেব্রুয়ারি  ১৭, ২০১৭ - বিভাগ: সম্পাদকীয়


গার্মেন্টস শিল্পে মালিক-শ্রমিক সুসম্পর্ক জরুরি

ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশে এসব সংগঠনের ব্যানারে বাংলাদেশ দূতাবাসের সামনে চলতি সপ্তাহে অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী নতুন করে প্রচারণা পাচ্ছে গার্মেন্টসে বাংলাদেশে সবচেয়ে কম মজুরির বক্তব্য

বাং লাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান খাত। এই শিল্প থেকে যে আয় হয় তা দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গভীর অবদান রাখছে। তাই এ শিল্পকে আরো গতিশীল ও শক্তিশালী করা অপরিহার্য।  কিন্তু অনেকদিন ধরেই গার্মেন্টস মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে নানা কারণে সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে। কিছুদিন পর পর শ্রমিকরা মালিকদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে যাচ্ছেন। এ আন্দোলন অনেক সময় ধ্বংসাÍক আন্দোলনে পরিণত হয়। ফলে উৎপাদন মারাÍকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর বিরূপ প্রভাব পড়ে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে। গার্মেন্টস মালিকরা বিদেশি ক্রেতাদের চাহিদানুযায়ী পোশাক সরবরাহ করতে পারেন না। ফলে সামগ্রিকভাবে গার্মেন্টস শিল্পের আয় কমে যায়। যার প্রভাব পড়ে দেশের অর্থনীতিতে। শ্রমিকদের আন্দোলন বিদেশি ক্রেতাদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তারা অনেকক্ষেত্রে শ্রমিকদের দাবিদাওয়াকে যৌক্তিক বলেই মনে করেন। শ্রমিকদের আন্দোলনকে দমানোর জন্য গার্মেন্টস মালিক ও সরকার দমননীতির আশ্রয় নেয় তারও সমালোচনা করেন বিদেশি ক্রেতারা।
গত বছরের ১১ ডিসেম্বর কোনো কিছুই জানান না দিয়ে আশুলিয়ায় মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে একটি কারখানার শ্রমিকরা হঠাৎ করে ধর্মঘট শুরু করেন। ধর্মঘট অন্যান্য কারখানাতেও ছড়িয়ে পড়ে। ওই এলাকায় কিছু বেনামি লিফলেট ছড়ানো হয়। তাতে শ্রমিকদের নিুতম মজুরি ১৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। কারখানা মালিক, শ্রমিকদের একটি বড় অংশ ও সরকারের একাধিক মন্ত্রী ধর্মঘটি শ্রমিকদের সাথে আলোচনা চালিয়েও ব্যর্থ হন। একের পর এক কারখানা বন্ধ হওয়ায় মালিকপক্ষ দিশেহারা হয়ে পড়ে। এরপর হার্ডলাইনে যায় মালিকপক্ষ ও সরকার। শ্রম আইনের ১৩(১) ধারা অনুযায়ী কারখানা বন্ধ করে দেয়া হয়। মামলা করা হয় প্রায় দেড় হাজার শ্রমিক ও শ্রমিক নেতার বিরুদ্ধে। তাদেরকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। বেশ কয়েকজন শ্রমিক নেতাকে আটকও করা হয়।
উপরোক্ত ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। আন্তর্জাতিক গার্মেন্টস অধিকার সংগঠন ইউনি গ্লোবাল ইউনিয়ন, ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশন, ক্লিন ক্লথ ক্যাম্পেইন আশুলিয়া পরিস্থিতি নিয়ে ক্রমাগত তাদের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশে এসব সংগঠনের ব্যানারে বাংলাদেশ দূতাবাসের সামনে চলতি সপ্তাহে অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী নতুন করে প্রচারণা পাচ্ছে গার্মেন্টসে বাংলাদেশে সবচেয়ে কম মজুরির বক্তব্য। ফলে এই ইস্যুতে নতুন করে চাপের মুখে পড়েছে গার্মেন্টস মালিকরা।
বাংলাদেশে গার্মেন্টস শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে এসব বিষয়ে মালিক ও সরকারকে নজর দিতে হবে। মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যকার যে বিরোধ তা মিটিয়ে তাদের মধ্যে সুসম্পর্ক সৃষ্টি করা না হলে এই শিল্পের সর্বনাশ অবশ্যম্ভাবী। আমরা মনে করি, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা গেলেই সকল সমস্যার সমাধান হবে।


সম্পাদকীয়'র অন্যান্য খবর

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি