ঢাকা, শনিবার ২৯ এপ্রিল ২০১৭  ,
১৯:১৬:৫৯ ফেব্রুয়ারি  ১৭, ২০১৭ - বিভাগ: উপ-সম্পাদকীয়


সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ব্যর্থতার দায়

Image

মুসাহিদ উদ্দিন আহমদ



দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর যাতায়াত, পণ্য সরবরাহ, শিক্ষায় অগ্রগতি এমন কি সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিনিময়ের ক্ষেত্রে সড়ক যোগাযোগের রয়েছে বিশেষ ভূমিকা। একটি আধুনিক ও মানসম্পন্ন ও নিরাপদ সড়ক পরিবহন যে কোনও  দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নকেও গতিশীল করে




ভাবতে কষ্ট হয়, দেশে এতো সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে, প্রতিদিন এতো মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন, অথচ কিছুতেই সড়ক দুর্ঘটনার লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না। আমরা যারা পুরপ্রকৌশল প্রযুক্তিবিদ্যায় পড়াশোনা করেছি, সড়ক নির্মাণ কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখার খানিকটা সুযোগও পেয়েছি বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে তাদের ভাবনাটা বড় নির্মম। এ নিয়ে অনেকেই লেখালেখিও করেছেন, করছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে সড়কপথ দিন দিন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হচ্ছে। ঘর থেকে পথে বেরুলে আর ফিরে আসা যাবে কি-না এ নিয়ে সন্দিহান সড়ক পথযাত্রী সবাই। শুধু মহাসড়কে দুরপাল্লার যাতায়াতে নয়, শহরাভ্যন্তরেও একের পর এক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছেন অনেক। সেদিনই বইমেলা প্রাঙ্গণ দিয়ে রিকশায় মালিবাগের বাসায় আসতে আসতে প্রয়াত সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক জগলুল আহমদ চৌধুরির কথা মনে হচ্ছিল বারবার। বাস থেকে নামতে গিয়ে বেপরোয়া চালকের সেই বাসের আঘাতে রাস্তায় ছিটকে পড়ে প্রাণ হারালেন তিনি। শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে আমি বাসে না উঠে রিকশায় চড়ি, হুড টেনে শক্ত করে চেপে ধরি। পাছে বাসের ধাক্কায় রিকশা থেকে পড়ে যাই। এতেও কি শেষ রক্ষা হবে? জানি না।
পৃথিবীর সব দেশেই কমবেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। কিন্তু দুর্ঘটনার হার বাংলাদেশের মতো ব্যাপক নয়। আমি ইরাকের রোড্স এ্যান্ড ব্রিজেস মন্ত্রণালয় এবং মালয়েশিয়ার একটি এক্সপ্রেস-ওয়ে নির্মাণ প্রকল্পে কনসাল্টট্যান্ট হিসাবে বেশ কবছর কাজ করার সুযোগ পেয়ে সেখানকার সড়ক, মহাসড়ক ডিজাইনে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার, নির্মাণকালে কাজের সঠিক মান নিয়ন্ত্রণ এবং নির্মাণ প্রকল্পে নিয়োজিত সকল শ্রমশক্তির আন্তরিক কর্মপ্রচেষ্টার সফল বাস্তবায়ন, সর্বোপরি সড়ক, মহাসড়ক ব্যবহারে নিয়মনীতি অনুসরণের ফলশ্র“তিতে দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা বহুলাংশে হ্রাস পায়। সড়ক, মহাসড়কে বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের জন্য আলাদা লেনের ব্যবহারও সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমায়। অথচ আমাদের  দেশে সড়ক নির্মাণে এসবের বালাই নেই। ফলে যা হবার তাই হয়। প্রতিদিন খবরের পাতা ওল্টালেই কোথাও না কোথাও সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংবাদ চোখে পড়ে। গত ১১ ফেব্র“য়ারি ফরিদপুরের ভাঙ্গা-খুলনা মহাসড়কের নগরকান্দার গজারিয়া মোড় এলাকায় সিলিন্ডারবাহী একটি কাভার্ডভ্যানের সাথে যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে আগুন লেগে ১৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। আহত হয়েছেন ৩৫ জন যাত্রী। একই দিনে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় রাজশাহী, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, মাগুরা, নাটোর, লক্ষ্মীপুর ও যশোরে ১৩ জন নিহত হয়েছেন। ১২ তারিখে ২৪ ঘন্টায় ২৫ জনের মৃত্যু ঘটেছে সড়ক দুর্ঘটনায়। এসব দুর্ঘটনা ঘটেছে মাইক্রোবাস-ট্রাক, ইজিবাইক-ট্রাক, ট্রাক-পিকআপ-ট্রাকের সাথে সংঘর্ষের কারণে। আবার কোথাও যানবাহনের নিচে পিষ্ট হয়ে মৃত্যুবরণের ঘটনা ঘটেছে।
বিশ্বের সড়ক দুর্ঘটনাপ্রবণ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের নাম রয়েছে প্রথম সারিতে। আর এভাবে সড়ক দুর্ঘটনা অব্যাহত থাকলে আগামী বিশ বছরে সড়ক দুর্ঘটনার হার দ্বিগুণ হতে পারে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। ২০১৫ সালের বিশ্ব ব্যাংকের এক পরিসংখ্যানে জানা যায়, বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় বছরে মারা যায় ১২ প্রায় হাজার মানুষ। হু (বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা) বলছে, ২০১২ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশে মৃতের সংখ্যা ছিল ১৭ হাজারের বেশি। গত পাঁচ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেছেন ৭৬০৭ জন। বিভিন্ন সূত্রমতে, দেশের সড়ক দুর্ঘটনার ৪৪ শতাংশ ঘটে দুই বা ততোধিক যানবাহনের সংঘর্ষে যার মধ্যে ১৭ শতাংশই মুখোমুখি সংঘর্ষ এবং দুর্ঘটনা কবলিত যানবাহনের ২৮ শতাংশই যাত্রীবাহী বাস। পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, মোট যানবাহনের ৪৬ শতাংশ মোটরসাইকেল, ৩২ শতাংশ বাস, ১৮ শতাংশ নছিমন-করিমন-ভটভটি এবং ৪ শতাংশ অন্যান্য যানবাহন সড়ক দুর্ঘটনায় জড়িত। অদক্ষ চালকের বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর কারণে সিংহভাগ দুর্ঘটনা ঘটে। মোট দুর্ঘটনার ৫১ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১২ শতাংশ খাদে পড়ে, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ৪ শতাংশ, ওভারলোড সংক্রান্ত কারণে ২৩ শতাংশ এবং যানবাহনের ত্র“টি ও চালকের অসর্তকতার জন্য ১০ শতাংশ দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়। সড়ক দুর্ঘটনার মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশই ঘটে মুখোমুখি সংঘর্ষ যার মধ্যে ৩৮ শতাংশ বাসের সাথে বাসের, ১৪ শতাংশ বাস ও ট্রাকে এবং ১১ শতাংশ ঘটে বাস ও মোটর সাইকেলের মধ্যে সংঘর্ষজনিত কারণে।
২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এক বছরে মোট ২ হাজার ৩১৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ হাজার ১৪৪ জন নিহত হয়েছে বলে এক পরিসংখ্যান প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ অন্দোলন। অবশ্য ২০১৫ সালে পরের বছরের চেয়ে ৩১০টি কম সড়ক দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ৩ জন। প্রতিবেদন মতে, ২০১৪ সালে নিহতের সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ৫ শত যা পরের দুবছরের তুলনায় অনেক বেশি। ‘নিরাপদ সড়ক চাই’-এর হিসাবে ২০১৩ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। গত ৩ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার ৭২৯ জন।
বিভিন্ন রিপোর্টে জানা যায়, গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশে যানবাহনের সংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণে দাঁড়িয়েছে যার মধ্যে নিবন্ধিত যানবাহনের চেয়ে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ড্রাইভারের সংখ্যা অনেক কম। পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত পরিসংখ্যানে জানা যায়, দেশের ৬১ শতাংশ যানচালকের বৈধ লাইসেন্স নেই। সরকারী হিসাবে নিবন্ধিত পরিবহনের মধ্যে অবৈধ চালকের সংখ্যা পাঁচ লাখের বেশি। সারাদেশে বর্তমানে যে সব ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল করছে তার বেশির ভাগই যাত্রীবাহী বাস। দেশে সড়ক মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহনের অনেক চালকই ভূয়া যাদের হাতে অনুমোদিত ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। আবার এদের মধ্যে বেশির ভাগ চালকই রয়েছে রাজধানী ঢাকায়। এ ধরনের অব্যবস্থার দ্রুত বিস্তার ঘটে চলেছে। অদক্ষ, লাইসেন্সবিহীন চালক এমনকি তদের হেলপার বেপরোয়াভাবে ট্রাফিক নিয়ম-কানুন না মেনে বেপরোয়াভাবে গাড়ী চালিয়ে দুর্ঘটনা ঘটায়। আর এর  ফলশ্র“তিতে সড়ক অবরোধ, গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ফলে বৎসরে গড়ে ৫ হাজার কোটির বেশি টাকার সম্পদ নষ্ট নয় যা বাংলাদেশের মোট জিডিপি’র প্রায় শতকরা দেড় ভাগ। 
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন সড়কগুলোর নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রক্রিয়া আদৌ সন্তোষজনক নয়। আজকাল কংক্রিটের রাস্তার বদলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বিটুমিনের রাস্তা তৈরি করা হয়। এ ধরনের রাস্তা নির্মাণে বিটুমিনের মান, উপযুক্ত পরিমাণ ব্যবহার নিয়েও রয়েছে সংশয়। এছাড়া পাথর বা ইটের খোয়ার গ্রেডিং, উপাদানগুলো সঠিক মিশ্রণ ও ঢালাই এবং দৃঢ়করণ প্রক্রিয়া আশানুরূপ নয়। ফলে বছর না ঘুরতেই এসব রাস্তা অকেজো হয়ে পড়ে, সৃষ্টি হয় ‘পটহোলের’। বিশেষ করে রাস্তার পাশের ড্রেনেজ সিস্টেম সচল না থাকায় বর্ষাকালে পানি জমে খানাখন্দে রাস্তা হয়ে পড়ে ব্যবহার অযোগ্য। সড়ক-মহাসড়কের কারিগরি নির্মাণ ত্র“টি ছাড়াও অপরিকল্পিত মোড় ও বাঁক, অপ্রশস্ত সড়ক-মহাসড়কে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, অদক্ষ গাড়িচালক, ত্র“টিপূর্ণ ও ফিটনেসবিহীন নিুমানের যানবাহন চলাচল, মহাসড়কে গাড়ির দ্রুত গতি ও বেপরোয়া ওভারটেকিং, রাস্তায় অপর্যাপ্ত ও ত্র“টিপূর্ণ ট্রাফিক সাইন ও সিগন্যাল, চালকদের ট্রাফিক আইন না মেনে গাড়ী চালানো, সড়কের ওপর হাটবাজার বসানো, বাসে-ট্রাকে অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল বহন ও রাস্তা ব্যবহারকারী বা পথচারীদের অসতর্কতা ও অসচেতনতার  মতো নানা বিষয় সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসাবে চিহ্নিত। এসবের আশু সমাধান জরুরি। জাতিসংঘে বাংলাদেশসহ সদস্য দেশগুলো ২০২০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনার হার অর্ধেকে নামিয়ে আনার যে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে তাকে বাস্তব রূপ দিতে বাংলাদেশের সড়ক পরিবহন ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নের কোনও বিকল্প নেই।
দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর যাতায়াত, পণ্য সরবরাহ, শিক্ষায় অগ্রগতি এমন কি সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিনিময়ের ক্ষেত্রে সড়ক যোগাযোগের রয়েছে বিশেষ ভূমিকা। একটি আধুনিক ও মানসম্পন্ন ও নিরাপদ সড়ক পরিবহন যে কোনও  দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নকেও গতিশীল করে। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সড়ক-মহাসড়কের প্রযুক্তিগত নির্মাণ কাঠামোর উন্নয়নসহ বাড়াতে হবে সড়কের পরিমাণ। ভাঙাচোরা সড়ক, মহাসড়ক সার্বক্ষণিক মেরামতের ব্যবস্থা করতে হবে। ফিটনেসবিহীন, ত্র“টিপূর্ণ যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে। যানবাহনের নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষার পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। গাড়ি চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানে সর্বোচ্চ কঠোরতা অবলম্বন করা সবচেয়ে জরুরি। মহাসড়কে অনুমোদিত গতিবেগের উর্ধে যানচলাচল বন্ধ করতে হবে। এ লক্ষে মহাসড়কে স্পিড ইন্ডিকেটর স্থাপনসহ ভ্রাম্যমাণ ট্রাফিক পুলিশের নজরদারী বাড়ানো জরুরি।
শহর অভ্যন্তরে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে পথচারীদের যত্রতত্র রাস্তা পারাপার বন্ধসহ তাদের জেব্রাক্রসিং ও ওভারব্রিজ ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা প্রয়োজন। সড়কে ট্রাফিক পুলিশের তৎপরতা বৃদ্ধিসহ নিয়মিত মনিটরিং চালু করে ভুয়া লাইসেন্সধারী চালক ও লাইসেন্স প্রদানকারী বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আধুনিক  ট্রাফিক সাইন ও সিগন্যালসহ সড়কপথকে উন্নত করে তুলতে হবে। ট্রাফিক আইন ও সিগন্যাল  অমান্যকারী বেপরোয়া গাড়িচালকের বিরুদ্ধে নিতে হবে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা। নিরাপদ সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করার লক্ষে গাড়িচালক, মালিক কর্তৃপক্ষ, লাইসেন্স প্রদানকারী সংস্থা, সড়কে দায়িত্ব পালনরত আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঠিক দায়িত্বপালন ও পথচারীর সড়ক ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যাবশ্যক। সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন পর্যায়ে যারা দায়িত্বে রয়েছেন দেশের ক্রমবর্ধমান দুর্ঘটনা প্রতিরোধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের বিনীত অনুরোধ জানাই। প্রতিটি জীবনই যে বড় মূল্যবান।
লেখক: প্রাবন্ধিক ও গল্পকার


উপ-সম্পাদকীয়'র অন্যান্য খবর

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি