ঢাকা, শনিবার ২১ অক্টোবর ২০১৭  ,
২০:৪১:৫২ ফেব্রুয়ারি  ১৭, ২০১৭ - বিভাগ: জাতীয়


পানগাঁওয়ে ভিড়লো ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
কেরানীগঞ্জের পানগাঁওয়ে প্রথমবারের মতো ভিড়লো ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজ। গতকাল শুক্রবার কলকাতা  থেকে আসা সোনারতরী সার্ভিসের পণ্য খালাসের উদ্বোধন করছেন বাণিজ্যমন্ত্রী  তোফায়েল আহমদ। এর ফলে পানগাঁওয়ে আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্যে অপার সম্ভাবনার দ্বার উচিত হলো। ২০১৫ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র  মোদির ঢাকা সফরের সময় সই হয় ‘কোস্টাল শিপিং এগ্রিমেন্ট’। এই চুক্তির ফলে সমুদ্র ও  নৌ-পথে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের সূচনা হয়। এই চুক্তির আওতায় এই পণ্য খালাস কার্যক্রম শুরু হলো পানগাঁওয়ে।
কলকাতা থেকে পানগাঁও আসা প্রথম জাহাজে করে এসেছে মোট ৬৫টি কন্টেইনার। এর মধ্যে আছে  ফেব্রিক্স,  টেক্সটাইল, স্যান্ডেল, সাইকেলের যন্ত্রাংশ, এলুমিনিয়াম ইত্যাদি। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, আপাতত কলকাতা বন্দর  থেকে প্রতিমাসে তিনবার পণ্য নিয়ে পানগাঁও ভিড়বে জাহাজ। বাংলাদেশ  থেকেও ভারতে পণ্য রপ্তানির জন্য এই বন্দর প্রস্তুত বলেও জানানো হয়। এ জন্য  সেখানে কাস্টমসসহ ব্যাংকিং সব ধরনের সুবিধাই আছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী  তোফায়েল আহমেদ বলেন, কলকাতা থেকে পানগাঁও টার্মিনালে জাহাজ আসলে ব্যবসায়ীদের খরচ কমবে, বাঁচবে সময়। তিনি বলেন, কলকাতা থেকে চট্টগ্রাম বন্দর বা অন্য  কোনো বন্দর দিয়ে পণ্য ঢাকায় আসলে   সময় লাগতো ১২ থেকে ১৫ দিন। এখন  সেটি আড়াই থেকে তিন দিন লাগবে। এর ফলে  বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্যসহ দেশ দুটির সম্পর্ক আরও জোরদার হবে। সোনারতরী সার্ভিসের পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে  নৌ কল্যাণ শিপিং লাইনস লিমিটেড এবং রিভার লজিস্টিক অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট লিমিটেড।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এর বড় প্রমাণ আজকের এ কন্টেইনার টার্মিনাল। ২০১৩ সালের ৭ নভেম্বর দক্ষিণ  কেরানীগঞ্জে পানগাঁও কন্টেইনার টার্মিনালটি উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ টার্মিনালে আন্তর্জাতিক পণ্য খালাস কার্যক্রম শুরু হলো। যা অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ  প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বলেন, অতীতে এ বন্দরটি সাইনবোর্ড ছাড়া কিছুই ছিল না। এ বন্দরে পণ্য খালাস কার্যক্রম চালু হওয়ায় শুধু কেরানীগঞ্জবাসীই নয়, ব্যবসায়ীসহ সারাদেশের মানুষ উপকৃত হবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেন, কোস্টাল শিপিং এগ্রিমেন্টের আওতায় আজ এ বন্দরে ভারতের জাহাজ চলাচল শুরু হলো। যার ফলে বাংলাদেশ-ভারতের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বাড়বে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মাতলুব আহমাদ প্রমুখ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময় করেন বাণিজ্যমন্ত্রী, ভারতীয় হাইকমিশনারসহ অন্যরা।
ব্যবসায়ীরা বলেন, পানগাঁওয়ে পণ্য আনতে সময় কম লাগলেও এখান  থেকে ঢাকা বা সাভার, গাজীপুরের  পোশাক কারখানায় পণ্য আনা নেওয়ার  ক্ষেত্রে বড় সমস্যা যানজট। এই সমস্যা  মোকাবিলায় পানগাঁও থেকে সাভার পর্যন্ত সড়ক চার লেন করার তাগাদা  দেন তারা। ব্যবসায়ীদের সংগঠন এফবিসিসিআইএর সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ, পোশাক শিল্প মালিকদের একটি সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি নাসিম ওসমান প্রমুখ এই মত বিনিময়ে অংশ নেন।
চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর চাপ কমানো এবং রাজধানী ও নারায়ণগঞ্জে নৌপথে পণ্য সরবরাহ সহজ করার উদ্দেশ্য নিয়ে ২০১৩ সালের ৭ নভেম্বর চালু হয় ঢাকার অদূরে পানগাঁও অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল। এখানে একসাথে দুটি জাহাজ তীরে ভিড়তে পারে। এখানে জেটির দৈর্ঘ্য ১৮০ মিটার। শুরু থেকেই সম্ভাবনাময় বলা হলেও গত তিন বছরেও পানগাঁও টার্মিনালে আশানুরুপ পণ্য খালাস হয়নি। গত বছর বন্দরের সক্ষমতার ১০ শতাংশ ব্যবহার হয়েছে। প্রতিষ্ঠার পর  থেকে এটাই সর্বোচ্চ। ভারত থেকে পণ্য সরাসরি এই বন্দরে আনা-নেওয়ার গতি বাড়লে বন্দরের সক্ষমতার পুরোপুরি বাড়ার পাশাপাশি এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসার আশা করছে সরকার। 


জাতীয় 'র অন্যান্য খবর

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি