ঢাকা, বুধবার ২২ মার্চ ২০১৭  ,
২০:৫৫:৫০ ফেব্রুয়ারি  ১৭, ২০১৭ - বিভাগ: শিক্ষা


কারিগরি শিক্ষায় ভর্তির খুঁটিনাটি

Image

সময়ের শিক্ষা ডেস্ক
এসএসসি কিংবা এইচএসসি পরীক্ষার পর প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পদ্ধতির কারণে শিক্ষাগ্রহণ অনেকটাই প্রতিযোগিতামূলক হয়ে পড়েছে। অনেক শিক্ষার্থীই এই প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে পড়াশোনায় বিরতি দিয়ে দেন। তবে চাইলে এসএসসি কিংবা এইচএসসি পরীক্ষার পর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে যে কোনো ডিপ্লোমা কোর্সেও ভর্তি হয়ে বদলে দিতে পারেন ভবিষ্যৎ জীবন। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বেশ কিছু কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানে যে কোর্সটি করতে খরচ হয় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা সেই কোর্সটি কোনো প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে করতে খরচ পড়ে ২ লক্ষ থেকে ৩ লক্ষ টাকা। সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহে নির্ধারিত ফলাফল ও পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হলেও প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানসমূহে নিজেদের ইচ্ছামতো শিক্ষার্থী ভর্তি করে থাকে। তবে প্রাইভেট কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেগুলো খুবই উন্নতমানের শিক্ষা প্রদান করে থাকে। সরকারি/বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানই বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয় এবং পরীক্ষা শেষে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে সনদপত্র প্রদান করা হয়।
বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যেসব কোর্স পরিচালনা করে থাকে তার মধ্যে রয়েছে।
ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং
এই কোর্সের অধীনে যেসব বিষয় রয়েছে সেগুলো হলো, আর্কিটেকচার অ্যান্ড ইন্টেরিয়র ডিজাইন, কনস্ট্রাকশন, গার্মেন্টস ডিজাইন অ্যান্ড প্যাটার্ন ম্যাকিং, ইনভায়রমেন্টাল, ইন্সটুমেনসন অ্যান্ড প্রসেস কন্ট্রোল, মেকানিক্স, মাইনিং অ্যান্ড মাইন সার্ভে, টেলিকমিউনিকেশন, আর্কিটেকচার, সিভিল (উড), কম্পিউটার, ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক্স, ফুড, মেকানিক্যাল, পাওয়ার, রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং, সিরামিক, গ্লাস, সার্ভেয়িং, মেরিন, শিপবিল্ডিং, এয়ারক্রাফট মেইনটেনেন্স (অ্যারোস্পেস), এয়ারক্রাফট মেইনটেনেন্স (এভিয়নিক্স), অটোমোবাইল, কেমিক্যাল, সিভিল, ডাটা টেলিকমিউনিকেশন অ্যান্ড নেটওয়ার্কিং, কম্পিউটার সাইন্স, ইলেক্টো মেডিকেল, প্রিন্টিং, গ্রাফিক ডিজাইন।
ভর্তির যোগ্যতা ও আবেদনের নিয়ম: এসএসসি কিংবা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে এবং গণিত বা উচ্চতর গণিতে কমপক্ষে জিপিএ ৩.০০ সহ ন্যূনতম ৩.৫০ জিপিএ থাকতে হয়। এছাড়া এসএসসিসহ বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত ২ বছর মেয়াদি ট্রেড কোর্স পাস প্রার্থীরা আবেদন করতে পারে। তবে এক্ষেত্রে ২২ বছর বয়সের অধিক কেউ আবেদন করতে পারে না। ভর্তির জন্য আবেদন করতে হয় অনলাইনে। ওয়েবসাইট: িি.িঃবপযবফঁ.মড়া.নফ। তবে উপজাতি, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান/পোষ্য এবং ২ বছর মেয়াদি ট্রেড কোর্সধারী আবেদনকারীদের নির্ধারিত ফরমে আবেদন করার পর তার প্রিন্ট আউট কপি ও প্রয়োজনীয় কাগজসহ ডাকযোগে কিংবা সরাসরি নির্ধারিত তারিখের মধ্যে কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরে পৌঁছাতে হয়। ভর্তি পরীক্ষার ফি বাবদ ২০০ টাকা টেলিটক প্রি-পেইড সংযোগের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হয়। এজন্য মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে ডিটিই লিখে স্পেস দিয়ে শিক্ষাবোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর, স্পেস এস.এসসি পরীক্ষার রোল নম্বর, স্পেস এসএসসি পাসের সন, স্পেস এসএসসি রেজিস্ট্রেশন নম্বর লিখে ১৬২২২ নাম্বারে এসএমএস করতে হয়। আবেদনকারীদের মধ্য থেকে যোগ্য প্রার্থীদের ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র প্রদান করা হয়। লিখিত ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের তালিকা ওয়েবসাইটে এবং মোবাইল ফোনে এসএমএস-এর মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হয়। এই কোর্সের মেয়াদ ৪ বছর এবং ৮ সেমিস্টারে বিভক্ত। প্রতি সেমিস্টারের মেয়াদ ৬ মাস।
ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং-এর বিভিন্ন কোর্সে দুই শিফটে ভর্তি করা হয়। যেসব শিক্ষার্থী বর্তমান বছরে উত্তীর্ণ হয়েছেন এবং পূর্ববর্তী ২ বছরে উত্তীর্ণ হয়েছেন তারা ১ম শিফটে আবেদন করতে পারেন। আর অন্য কোনো বছরে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা ২য় শিফটে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারে।
৫০ নম্বরের লিখিত ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হয়। লিখিত পরীক্ষায় বাংলা ও ইংরেজি থেকে ১৫ নম্বর, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন থেকে ১৫ নম্বর, গণিত থেকে ১৫ নম্বর এবং সাধারণ জ্ঞান ৫ নম্বরের প্রশ্ন থাকে। এসএসসির জিপিএকে ১০ দ্বারা গুণ করে প্রাপ্ত স্কোরের সাথে লিখিত পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর যোগ করে মেধাতালিকা প্রণয়ন করা হয়।
ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পাসের পর: ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করার পর ডুয়েট, বিভিন্ন প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি, আইইবি ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান থেকে বিএসই ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি নেওয়া যায়। চাকরির ক্ষেত্রেও এর চাহিদা রয়েছে। সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যেমন সড়ক বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ রয়েছে। এছাড়া প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নাভানা, রহিম আফরোজসহ বিভিন্ন পাওয়ার প্লান্ট, মোবাইল কোম্পানিতে চাকরির সুযোগ রয়েছে।
বিষয়ভিত্তিক কিছু কোর্সের বিবরণ
ডিপ্লোমা ইন এয়ারক্রাফট মেইনটেনেন্স: বর্তমান সময়ে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সগুলোর মধ্যে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হচ্ছে এয়ারক্রাফট মেইনটেনেন্স। সংক্ষেপে বলা হয় ‘এএমই’। এই কোর্সটি দুই ভাগে বিভক্ত যেমন - অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং এবং এভিয়নিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং। এয়ারক্রাফট মেইনটেনেন্স ইঞ্জিনিয়ার হলেন একজন লাইসেন্স প্রাপ্ত ব্যক্তি যিনি উড়োজাহাজের জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করেন। তার সনদ পেলেই কেবল উড়োজাহাজ উড্ডয়ন করতে পারে। অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কাজ এমন একটি মেশিন  তৈরি করা যা আকাশে নিরাপদে উড়তে পারে। এায়ারফ্রেম তৈরি, এয়ারক্র্যাফট ও এর যন্ত্রপাতি সংযোগ স্থাপন, উন্নয়ন ও মেরামত করা, ফ্লাইট টেস্ট এসব কাজও এই প্রকৌশলীদের করতে হয়। আর উড়োজাহাজের ফ্লাইট ডায়মানিক্স, কোয়ালিটি, স্ট্যাবিলিটি পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ সিস্টেম নিয়ে এভিয়নিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং। অ্যাকসেলারোমিটার, গাইরোস্কোপ, ফ্লাইট ইন্সট্র–মেন্টস, সেন্সর একুরেটর, লিনিয়ার ইলেক্ট্রনিক্স সার্কিট প্রভৃতি নিয়ে কাজ করতে হয় এসব ইঞ্জিনিয়ারকে।
বিটেক এডেক্সেলের আওতায় পরিচালিত হয় এই কোর্স। এতে ক্রেডিট ট্রান্সফার করার সুযোগও রয়েছে। চার বছর মেয়াদি এই কোর্সটি কয়েকটি ভাগে বিভক্ত। যেমন - প্রথম দেড় বছরে সম্পন্ন হয় লেভেল থ্রি বা ন্যাশনাল ডিপ্লোমা, এতে প্রতিষ্ঠানভেদে খরচ পড়ে ৩ লক্ষ টাকা থেকে ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। পরবর্তী দেড় বছরে সম্পন্ন করা হয় লেভেল ফাইভ বা হায়ার ন্যাশনাল ডিপ্লোমা। এই স্টেজে এসে খরচ বেড়ে দাঁড়ায় প্রতিষ্ঠানভেদে ৫ লক্ষ টাকা থেকে ৫ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। শেষ এক বছরে সম্পন্ন করতে হবে টপ-আপ বিএসসি, যা প্রদান করবে যুক্তরাজ্যের কিংসটন বিশ্ববিদ্যালয়। এর খরচও সেমিস্টারভিত্তিক প্রদান করতে হয় কিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ে। এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা এই কোর্সে আবেদন করতে পারেন। সেক্ষেত্রে গণিত ও পদার্থ বিজ্ঞান উভয় বিষয়ে ৩.৫ জিপিএ থাকতে হয়।
ডিপ্লোমা ইন মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং: নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি নামক প্রতিষ্ঠানটি থেকেই শুধুমাত্র এই কোর্সটি করা যায়। মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সটি দুই ভাগে বিভক্ত। একটি মেরিন টেকনোলজি ও অন্যটি শিপবিল্ডিং টেকনোলজি। এ দুটি কোর্সেরই মেয়াদ চার বছর। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী এখানেও মুক্তিযোদ্ধা এবং উপজাতীয় কোটা সংরক্ষিত রয়েছে। ডিপ্লোমা পর্যায়ে দুটি কোর্সে মোট ৪৮ জন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়। কোর্স শেষে উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কোনো প্রতিষ্ঠানে যোগ দিলে শুরুতে বেতন ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা হয়। সিঙ্গাপুর ও দুবাইয়ে এ কোর্স করা ছাত্রদের ভালো চাহিদা রয়েছে।
ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং: টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটে চারটি বিভাগে চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা কোর্স করা যায়। বিভাগগুলো হচ্ছে ইয়ার্ন ম্যানুফ্যাকচারিং (এখানে তুলা ও পাটের আঁশ থেকে সুতা তৈরি করা শেখানো হয়), ফেব্রিক ম্যানুফ্যাকচারিং (সুতা থেকে কাপড় তৈরি), ওয়েট প্রসেসিং (রং করা) ও ক্লথিং টেকনোলজি (গার্মেন্টস)। দেশে ছয়টি সরকারি এবং ১৮টি বেসরকারি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট রয়েছে। ভর্তির জন্য কোনো লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে হয় না। সর্বোচ্চ জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মেধাতালিকার ভিত্তিতে চারটি ডিপার্টমেন্টে ২০ জন করে মোট ৮০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। মেয়ে, আদিবাসী, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ও প্রবাসী সন্তানদের জন্য আলাদা কোটা রয়েছে। কোর্স শেষে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিএসসি সম্পন্ন করা যায়। চাকরি ক্ষেত্রে সুতা প্রস্তুতকারী কল-কারখানা বা গার্মেন্টে চাকরির সুযোগ রয়েছে। এ পেশায় শুরুতে বেতন ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা হতে পারে। সরকারিভাবে দিনাজপুর, টাঙ্গাইল ও বরিশালে ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট রয়েছে। সরকারি ছাড়াও বর্তমানে বেশ কিছু বেসরকারি ইনস্টিটিউট টেক্সটাইল টেকনোলজি চালু করেছে।
ডিপ্লোমা ইন সার্ভে: ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সগুলোর মধ্যে চাকরির বাজারে এই কোর্সটির যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। তবে আসন সংখ্যা খুব সীমিত। সরকারি পর্যায়ে কুমিল্লা ও রাজশাহীতে দুটি সার্ভে ডিপ্লোমা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিটি ইনস্টিটিউটে ৮০ জন করে ছাত্রছাত্রী ভর্তি নেওয়া হয়। তবে সরকারি নিয়মানুযায়ী দুটি ইনস্টিটিউটেই ছাত্রীদের জন্য ১০ ভাগ এবং এসএসসি ভোকেশনাল শিক্ষার্থীদের জন্য ১৫ ভাগ কোটা আছে। এ ছাড়াও মুক্তিযোদ্ধা ও উপজাতীয় প্রার্থীদের ক্ষেত্রেও কোটা সংরক্ষণ করা হয়ে থাকে। এই কোর্সে শেখানো হয় - কোনো কিছুর সঠিক মাপজোখ করা। যেমন- জমি-জমা, গ্যাসকূপ, নদী বা সমুদ্রের গভীরতা, রাস্তাঘাট, বন-জঙ্গল ইত্যাদি। আর এ জরিপকাজ বিভিন্ন পদ্ধতিতে হয়ে থাকে; যেমন কনস্ট্রাকশন সার্ভে, জিওলজিক্যাল সার্ভে, সিসমিক সার্ভে, সয়েল সার্ভে, হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভে ইত্যাদি। এ কোর্স এসব সার্ভে কিভাবে করা হয় এবং কোন কোন যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয় তা হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কোর্স শেষে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, তিতাস গ্যাস, ভূমি অফিসে চাকরির সুযোগ রয়েছে। আর বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন রিয়েল এস্টেট ও জরিপ  কোম্পানি ছাড়াও বিদেশি  কোম্পানিতে কাজের সুযোগ রয়েছে। সরকারিভাবে এই কোর্সটি করতে খুব বেশি খরচ হয় না।
ডিপ্লোমা ইন টেলিকমিউনিকেশন: কর্মমুখী শিক্ষার মধ্যে টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়টিরও চাহিদা রয়েছে। একজন টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ার যেকোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানে ঝঁন অংংরংঃধহঃ ঊহমরহববৎ হিসেবে কাজ করার সুযোগ পেতে পারেন। এছাড়া যেকোনো প্রতিষ্ঠানে মিড লেভেল ইঞ্জিনিয়ার, বিটিএস ইন্সটলার, নেটওয়ার্ক এডমিনিসটেটর, এসিস্টেন্স টেলিকম হিসেবে কাজের সুবিধাও রয়েছে। এছাড়া একজন শিক্ষার্থী টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং পাসের পর চাকরির পাশাপাশি সান্ধ্যকালীন ব্যাচে দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্বল্পতম সময়ে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং এবং এমএস/এমএসসি ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ লাভ করতে পারেন। ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষাক্রম ৪ বছর মেয়াদি ৮ সেমিস্টারে সম্পন্ন হয়, প্রতি সেমিস্টারে ৬ মাস অন্তর বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়। ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স সাফল্যের সাথে সম্পন্ন করার পর শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং সনদপত্র লাভ করে।
ডিপ্লোমা ইন অটোমোবাইল টেকনোলজি: মোটরযান সম্পর্কিত সকল তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক এবং ড্রাইভিং ইত্যাদি বিষয়সহ ইঞ্জিনের খুঁটিনাটি সবকিছুই এই টেকনোলজিতে সংযুক্ত করা হয়েছে। বিআরটিসি, বিআরটিএ, বি.আই.ডাব্লিউ.টি.সিসহ বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিজ এবং গাড়ি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ছাড়াও অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারদের দেশে/বিদেশে এবং সরকারি/বেসরকারি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে চাকরির প্রচুর সুযোগ রয়েছে। বেশ কিছু সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখানে অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ওপর পড়াশোনা করানো হয়। চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা কোর্স করতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীকে ন্যূনতম এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় পাস করতে হবে। সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে ডিপ্লোমা করলে খুব বেশি টাকা লাগে না, কিন্তু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে ডিপ্লোমা করতে দুই থেকে তিন লাখ টাকা লাগে।
বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট: িি.িনঃবন.মড়া.নফ


শিক্ষা 'র অন্যান্য খবর

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি