কোনো কিছুই আন্দোলন ঠেকাতে পারবে না: ফখরুল

0
0

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নামতে পারলে কোনো কিছুই তাদের আন্দোলনকে আটকাতে পারবে না। তিনি নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন এবং অবিলম্বে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন দেয়ারও দাবি জানিয়েছেন।
ফখরুল বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, আমাদের যে নির্বাচন কমিশন, যারা সমস্ত নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে, তাদের অবিলম্বে পদত্যাগ করে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। এই সরকারকে অবিলম্বে নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে পদত্যাগ করতে হবে এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের পার্লামেন্ট ও জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক সমাবেশে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে জঘন্য মিথ্যাচার ও তাঁর খেতাব বাতিলের চক্রান্ত, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল, লেখক মুশতাক আহমেদ ও সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কিরের হত্যাকা-ের প্রতিবাদে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি যৌথভাবে এই সমাবেশের আয়োজন করে।
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার জোর করে রাষ্ট্রক্ষমতা ও রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে বেআইনিভাবে আগের রাতে ভোট করে ক্ষমতা দখল করে বসে আছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার অভিযোগ, এই ‘দখলদার সরকার’ শুধু ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন তৈরি করেছে। যা দিয়ে অন্যায়-অত্যাচার-নিপীড়ন করে তারা ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বর্তমান সরকার গণতান্ত্রিক সরকার নয়, জনগণের সরকার নয়। তারা জোর করে রাষ্ট্রক্ষমতা ও রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে বেআইনিভাবে আগের রাতে ভোট করে ক্ষমতা দখল করে বসে আছে। দেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নামে একটি ভয়াবহ আইন তৈরি করা হয়েছে। এই আইন দিয়ে সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের বাক্স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে, লেখার স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এই সরকার শুধু ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য আজ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতো আইন তৈরি করেছে। তারা সবচেয়ে বড় যে অস্ত্র ব্যবহার করেছে, তা হলো বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে বেআইনিভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে আটক করে রাখা; তারেক রহমানকে মিথ্যা মামলায় বেআইনি সাজা দিয়ে নির্বাসিত করে রাখা।
মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, ‘৩৫ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। সাত শ’র ওপর মানুষ, যারা রাজনীতি করেন না, তাদের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় আটকে রাখা হয়েছে। কার্টুনিস্ট কিশোরের ওপর নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে। মুশতাক আহমেদ কারাগারে নিহত হয়েছেন। আমি শাবাশ ও ধন্যবাদ দিতে চাই কার্টুনিস্ট কিশোরকে যে, আজ তিনি নিজের ওপর হওয়া অত্যাচার-নির্যাতনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।’
সরকারের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, অবিলম্বে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করতে হবে, এই আইনে গ্রেপ্তার সব মানুষকে মুক্তি দিতে হবে। মিথ্যা মামলায় আটক থাকা দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে হওয়া মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। ৩৫ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে করা গায়েবি মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। বর্তমান নির্বাচন কমিশন, যারা সব নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে, তাকে অবিলম্বে পদত্যাগ করে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে।
সরকারের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনারা এত ভয় পান কেন, অনুমতি দেওয়ার পরও কেন চতুর্দিকে বন্ধ করে দিয়ে আমাদের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের আসতে দেন না? কারণ, আপনারা জানেন, জনগণ জেগে উঠলে আপনাদের ক্ষমতায় থাকা সম্ভব হবে না।’
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল এবং নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে এই সমাবেশ। এই সমাবেশ যখন বড় হচ্ছে, তখন তোপখানা রোড-পল্টন মোড়, মৎস্য ভবন, দোয়েল চত্বর ও সচিবালয়ের রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, বাস বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এর কারণ বাসে উঠে নেতা-কর্মীরা এখানে নামবেন।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবীব-উন-নবী খান সোহেলের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক নাজিমুদ্দিন আলম প্রমুখ বক্তব্য দেন।