গার্মেন্টস-প্লাস্টিক খাতের অভিযোগ সামলাতে ‘হিমশিম খাচ্ছে’ এনবিআর

0
1

নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের বিভিন্ন শিল্প খাতের মধ্যে তৈরি পোশাক ও প্লাস্টিক শিল্প খাতের সবচেয়ে বেশি অভিযোগ জমা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। এসব অভিযোগ সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার বিকেলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে রাজস্ব সংলাপ আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।
মুনিম বলেন, আমরা দেশীয় শিল্পের বিকাশের জন্য সব ধরনের সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছি। যেখানেই আমরা দেখতে পাই যে দেশীয় কোনো শিল্পকে সাপোর্ট দিলে সেটা ভালো করবে, সেখানেই আমরা সাপোর্ট করে থাকি।
তিনি বলেন, সমস্যা হচ্ছে— আমাদের একটু সতর্ক থাকতে হয়। অনেক সময় দেখা সজ্ঞানে আপনাদের সাপোর্ট করতে গিয়ে আপনাদেরই ক্ষতি হয়ে যায়। সে কারণে আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেব। স্থানীয় শিল্প কারখানার জন্য আমাদের সাপোর্ট অব্যাহত থাকবে।
এনবিআর চেয়ারম্যান আরও বলেন, এখন আমাদের কাছে অনেক অভিযোগ আসছে। গার্মেন্টস ও প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজে অভিযোগ অনেক বেশি। এসব অভিযোগ সামলাতে গিয়ে আমরা হিমশিম খাচ্ছি। মোট কথা দেশীয় শিল্প সংরক্ষণের জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। রাজস্ব আহরণে রাজস্ব বিভাগ থেকে কী পলিসি নেওয়া যেতে পারে, আমরা সেটা করে থাকি। কারণ রাজস্ব ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়।
এদিকে, রাজস্ব সংলাপে বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম মোল্লা বলেন, দেশি-বিদেশি প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে ৬৮টি সিরামিক শিল্প প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সিরামিক খাতটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় শ্রমঘন একটি শিল্প খাত। যন্ত্রপাতি, প্রযুক্তি ও কাঁচামাল দেশে না থাকায় আমদানি করে উৎপাদিত পণ্য বিক্রিতে আমাদের কাঁচামাল ও প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ দেশগুলোর সঙ্গে স্থানীয় ও বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকতে হচ্ছে।
দেশীয় সিরামিক শিল্প খাতের সুরক্ষায় কাঁচামাল আমদানিতে ময়েশ্চার সমন্বয়, কাঁচামাল ও উপকরণ থেকে আমদানি শুল্ক হ্রাস, আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের কারণে শুল্ক ফাঁকি রোধে ন্যূনতম ট্যারিফমূল্য হালনাগাদকরণ, বিদেশে থেকে তৈরি সিরামিক পণ্যের আমদানি পর্যায়ে শুল্ক কর হার সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশীয় শিল্পের প্রতিরক্ষণ নিশ্চিত করা, দেশীয় টাইলস ও স্যানিটারিওয়্যার উৎপাদন পর্যায়ে ১৫ ও ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার ও মূসক এবং আয়কর আইনের বিধান সংশোধনের প্রস্তাব তোলা হয় বৈঠকে।