গাড়ির ধোঁয়ায় দূষিত রাজধানীর বায়ূ

0
5

সৈয়দ ফারুক হোসেন :

বৈশ্বিক গাড়ির ধোঁয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে বিশ্বের তৃতীয় শহর ঢাকা। এ থেকে নানা রোগব্যাধি হয়ে মৃত্যু বেশি হচ্ছে এ মহানগরীতে যা বিশ্বের গড় মৃত্যুহারের চেয়ে প্রায় ১০ গুণ। যানজটপ্রবণ এলাকাগুলোতেই বেশি দূষণ হচ্ছে। তা বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মানমাত্রার তুলনায় প্রায় ৪ গুণ বেশি। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বায়ুদূষণের শহরগুলোয় চালানো এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। ‘বিশ্বের ১০ দেশের শহরে গাড়ির ধোঁয়া থেকে সৃষ্ট দূষণে স্বাস্থ্যঝুঁঁকি’ শীর্ষক এ গবেষণা প্রতিবেদন সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী এনভায়রনমেন্ট ইন্টারন্যাশনালে প্রকাশিত হয়েছে। যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড, ইথিওপিয়া, ভারত, বাংলাদেশ, চীন, ইরাক, মিসর, তানজানিয়া, কলম্বিয়া ও মালাবির ১৫ জন গবেষক এ গবেষণা করেন। এ দূষণের পেছনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে যানবাহনের ধোঁয়া। এ কথা কয়েক বছর ধরেই বিশেষজ্ঞরা বলে আসছিলেন। সাম্প্রতিক এক গবেষণায়ও বিষয়টি উঠে এসেছে। সামগ্রিকভাবে ঢাকায় বায়ুদূষণ বাড়ছে। বায়ুদূষণের ক্ষেত্রে যানবাহনের ভূমিকা দ্রুত বাড়ছে, তাই এখন থেকে এসব উৎস বন্ধ না করলে জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁঁকিতে পড়বে।
প্রকৃতপক্ষে, মাত্রাতিরিক্ত ইটভাটা, যানবাহন, নির্মাণকাজ ও কলকারখানার ধোঁয়ার কারণে আমরা ঢাকা শহরের বাসিন্দারা এক বিষাক্ত গ্যাসের বলয়ের মাঝে বাস করছি। ঢাকার বাতাসে দূষণের মাত্রা গত ১০ বছরে ৮৬ শতাংশ বেড়েছে। জনসংখ্যা দিয়ে বায়ুদূষণ বিবেচনা করলে সারা পৃথিবীর সবচেয়ে বিষাক্ত বায়ুর দেশ হচ্ছে বাংলাদেশ। বর্তমান সময়ের ঢাকার বায়ু দূষণের মাত্রাকে চিহ্নিত করা হয়েছে “ভেরী আনহেলদি”- অর্থাৎ অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর হিসেবে। এ রকম বায়ূ দুষণে ঢাকাবাসী চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষকরে শিশু ও শ্বাসকষ্টের রোগীদের অবস্থা খুবই খারাপ। এ অবস্থায় ঢাকার বায়ু দূষণের মাত্রা কমানোর জন্য জরুরিভিত্তিতে সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন গ্রহণ করতে হবে।
কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে ঢাকা হয়ে উঠেছিল বিশ্বের অন্যতম নির্মল বায়ুর শহর। কিন্তু বিধিনিষেধ ওঠার কয়েক দিনের মধ্যেই আবার এ শহর সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় এসেছে। কানাডার ভ্যানকুভারের পরই ঢাকার বাতাস ছিল সবচেয়ে খারাপ। ঢাকার পাশাপাশি ভারতের চেন্নাই, ভেলোর, বেঙ্গালুর, দিল্লি, চীনের গুয়ানজু, জেংঝোউ ও নানজিং, কলম্বিয়ার বোগোটা ও মেডেলিন, ব্রাজিলের সাও পাওলো, কুরিটিবা ও লনড্রিন, মিসরের কায়রো, ইরাকের সুলায়মানিয়া, ইথিওপিয়ার আদ্দিস আবাবা, মালাবি ও তানজানিয়ার দারুস সালাম শহরে গবেষণাটি করা হয়। দেখা গেছে, এসব শহরের মধ্যে গাড়ির গতি সবচেয়ে কম দারুস সালামে। সেখানে ঘণ্টায় ৯ কিলোমিটার গতিতে গাড়ি চলে। এর পরই রয়েছে ঢাকা, গতি ঘণ্টায় ১৪ কিলোমিটার। এ দুই শহরেই সবচেয়ে বেশি সময় মানুষ দূষিত বাতাসের মধ্যে থাকে। গাড়ি থেকে নির্গত দূষিত বাতাসের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁঁকির দিক থেকে ঢাকা তৃতীয় স্থানে রয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দারুস সালাম ও ব্যানতাওরি। দারুস সালামে প্রতি ১ লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় আড়াইজনের মৃত্যু হয় এ দূষণে। যেখানে এ দূষণে বিশ্বে গড়ে ১০ লাখ মানুষে সর্বোচ্চ একজনের মৃত্যু হয়। জানা গেছে, ঢাকায় কোন্ গাড়ি চলতে পারবে আর কোনটা পারবে না সে সনদ দেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গাড়ির ধোঁয়া মাপার যন্ত্র তাদের নেই। তারা গাড়ির ফিটনেস পরীক্ষা করেন চোখে দেখে। তবে জানা গেছে, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এ যন্ত্র কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ওই যন্ত্র এলেই ধোঁয়া দূষণরোধে কাজ শুরু হবে। গাড়ি থেকে নির্গত ধোঁয়ায় মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর অতি সূক্ষ্ম বস্তুকণার (পিএম ২.৫) পরিমাণ বিবেচনায় নেওয়া হয়। ঢাকা শহরে বছরে গড়ে প্রতি ঘনমিটার বাতাসে অতি সূক্ষè বস্তুকণা থাকে ৯২ মাইক্রোগ্রাম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে এটা থাকার কথা ২৫ মাইক্রোগ্রাম। মূলত পুরাতন গাড়ি, নিম্নমানের জ্বালানি, যানজট, গাড়ির গতি ও সংখ্যার ভিত্তিতে এই দূষণ বাড়ে। যাত্রী, পথচারী থেকে শুরু করে সড়কের পাশের বাসিন্দারা এতে স্বাস্থ্যঝুঁঁকিতে পড়েন। ঢাকার বাতাস সকালে সবচেয়ে কম ও সন্ধ্যায় সবচেয়ে বেশি দূষিত থাকে। এখানে ১ হাজার ৬৪০ বর্গকিলোমিটারে ৩ লাখ ৩৫ হাজার গাড়ি চলে। বাসিন্দাদের প্রায় আড়াই শতাংশ ব্যক্তিগত গাড়িতে চড়ে। তারা শুধু গাড়ির গ্যাস নামালে দূষণের শিকার হয়। আর বাকিরা বাস, হেঁটে ও রিকশায় চলাচল করে। তাদের প্রায় সবাই দূষণের কবলে পড়ে। গাড়ি থেকে নির্গত দূষিত বাতাসের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁঁকির দিক থেকে ঢাকা তৃতীয় স্থানে রয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দারুস সালাম ও ব্যানতাওরি। দারুস সালামে প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় আড়াইজনের মৃত্যু হয় এই দূষণে। ঢাকা ও ব্যানতাওরি শহরে মারা যায় একজন করে। যেখানে এই দূষণে বিশ্বে গড়ে ১০ লাখ মানুষের সর্বোচ্চ একজনের মৃত্যু হয়।
বায়ু দূষণ বলতে বোঝায় যখন বায়ুতে বিভিন্ন ক্ষতিকারক পদার্থের কণা ও ক্ষুদ্র অণু অধিক অনুপাতে বায়ুতে মিশে যায়। রাজধানী ঢাকা দূষিত বাতাসের শহরের র‌্যাংকিংয়ে বর্তমানে নিয়মিতই উপরের স্থানে থাকছে। এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সে (একিউআই) গত এক সপ্তাহ ধরেই বায়ু দূষণে ঢাকা প্রথম থেকে সপ্তম স্থান অধিকার করছে। এই দূষণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির ঝুঁকিতে আছে বাংলাদেশ। বায়ুতে যেসব ক্ষতিকর উপাদান আছে, তার মধ্যে মানবদেহের জন্য সবচেয়ে মারাত্মক উপাদান হচ্ছে পিএম ২.৫। এত দিন এই উপাদান সবচেয়ে বেশি নির্গত করত চীন। গত দুই বছরে চীনকে টপকে ওই দূষণকারী স্থানটি দখল করে নিয়েছে ভারত। চীন ও ভারতের পরেই রয়েছে বাংলাদেশের অবস্থান। আর বায়ুদূষণের কারণে শিশুমৃত্যুর হারের দিক থেকে পাকিস্তানের পরেই বাংলাদেশের অবস্থান যা আমাদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগ ও উৎকন্ঠার বিষয়। প্রতিদিনের বাতাসের মান নিয়ে তৈরি করা একিউআই সূচক একটি নির্দিষ্ট শহরের বাতাস কতটুকু নির্মল বা দূষিত সে সম্পর্কে মানুষকে তথ্য দেয় এবং তাদের জন্য কোন ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে তা জানায়। একিউআই সূচকে ৫০ এর নিচে স্কোর পাওয়ার মানে হলো বাতাসের মান ভালো। একিউআইতে ৫১ থেকে ১০০ স্কোর পাওয়ার মানে হলো বাতাসের মান গ্রহণযোগ্য। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর পাওয়ার অর্থ হচ্ছে বাতাসের মান দূষিত। তবে ঢাকায় বায়ু দূষণের মাত্রা এখন নিয়মিত ১৭৫ থেকে ২৫০ স্কোর থাকছে ঢাকার চারপাশের ইটের ভাটায় নিম্নমানের কয়লা পোড়ানো এবং ঢাকা নগরীর গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, ড্রেনেজ এবং রাস্তাঘাট উন্নয়ন, মেরামত ও সংস্কার কার্যক্রমের আওতায় অপরিকল্পিতভাবে রাস্তা-ঘাট খোঁড়াখুঁড়ি; রাস্তার পাশে আবর্জনার স্তুপ; মেরামতহীন ভাংগাচোরা রাস্তায় যানবাহন চলাচল, ফিটনেসবিহীন যানবাহন থেকে অতি মাত্রায় বিষাক্ত কালো ধোঁয়ার নির্গমন, ভবন নির্মাণ ও ভাঙার সময় মাটি, বালু, ইটসহ অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রী বাইরে রাস্তা-ফুটপাতে যত্রতত্র ফেলে রাখা, শিল্প-কারখানার বিষাক্ত কালো ধোঁয়া ও ধুলা-বালি বায়ু দূষণের অন্যতম প্রধান উৎস। এসব উৎস থেকে বিপুল পরিমাণ বিষাক্ত ক্ষতিকারক গ্যাস, ভারী ধাতবকণা ও ধুলাবালি বাতাসে মিশে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। গত বছরে প্রকাশিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য এবং নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশের বাসিন্দারা বায়ুদূষণের প্রধান শিকার। ইটভাটা থেকে নির্গত নাইট্রোজেন, অক্সাইড ও সালফার-ডাই অক্সাইড অ্যাজমা, হাঁপানি, অ্যালার্জি সমস্যা, নিউমোনিয়া ও শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ বাড়িয়ে দেয়। ধূলিকণার মাধ্যমে ফুসফুসের নানা রোগ সৃষ্টি হয়, যা ফুসফুসকে শক্ত করে দেয়। কার্বন-মনো-অক্সাইড রক্তের সঙ্গে মিশে অক্সিজেন পরিবহনের ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। সর্বোপরি বহু মানুষের অকাল মৃত্যুর কারণ হয়ে পড়ে এই বায়ু দূষণ। বিশ্বে প্রতিবছর ৫৫ লাখের বেশি মানুষ মৃত্যুবরণ করে বায়ু দূষণের কারণে। বাতাসে ভাসমান বস্তুকণার পরিমাপ করা হয় প্রতি ঘনমিটারে মাইক্রোগ্রাম হিসেবে। অতি সাম্প্রতিকালে এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে, ২.৫ মাইক্রোমিটার আকৃতির ভাসমান বস্তুকণা যথাক্রমে- ফার্মগেট, দারুস সালাম, সংসদ ভবন, নারায়ণগঞ্জ, রাজশাহী ও আগ্রাবাদে ৮৪.৫৩, ৮০.৪৪, ৬৩.৯০, ৯৪.০৫, ৬১.৬৭ ও ৭৮.৭৮। যার সহনীয় পরিমাণ হচ্ছে ৫০ মাইক্রোগ্রাম প্রতি ঘনফুটে। উপরন্তু ঢাকার বাতাসে ক্যাডমিয়াম প্রায় ২০০ গুণ বেশি, নিকেল ও সিসার মাত্রা প্রায় দ্বিগুণ ও ক্রোমিয়াম প্রায় ৩ গুণের বেশি। সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে বাতাসে দূষণের পরিমাণ কত ভয়াবহ। ঢাকা শহরের বায়ু দূষণের জন্য ইটভাটা দায়ী ৫৮%, ডাস্ট ও সয়েল ডাস্ট ১৮%, যানবাহন ১০%, বায়োমাস পোড়ানো ৮% এবং অন্যান্য উৎস ৬% দায়ী। একজন সুস্থ স্বাভাবিক লোক গড়ে ২,০০,০০০ লিটার বায়ু শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করে থাকে। দূষিত বায়ুর কারণে ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্থ হয়, এ থেকে ক্যান্সার হতে পারে, যা মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। প্রতিদিন দুই বার রাজধানীর রাস্তা ঝাড়ু দিতে হবে এবং সপ্তাহে একদিন রাস্তা পানি দিয়ে ধুয়ে দিতে হবে। সারাদেশের রাস্তা ধোঁয়ার জন্য গাড়ী আমদানি করতে হবে। বায়ু দূষণ রোধের পুরো কার্যক্রম তদারকি করার জন্য আলাদা বিশেষজ্ঞ টিম গঠন করতে হবে এবং সমসময় কার্যক্রম তদারকি করতে হবে। ঢাকা নগরী ও তার আশেপাশে গাছপালার পরিমাণ ব্যাপক হারে কমে গেছে। অনতিবিলম্বে নদীর পাড়, রাস্তার পাশে, বিভিন্ন সরকারি জায়গায় পর্যাপ্ত বৃক্ষ রোপন করতে হবে ও বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি ভবন ও বাসা-বাড়ির সামনের ফাঁকা জায়গায় ও ছাদে মানুষকে সচেতন করার মাধ্যমে বাগান গড়ে তুলতে হবে। বায়ু দূষণে জড়িত দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। রাজধানীর বায়ুদূষণ রোধে পরিবেশ অধিদপ্তরকে নিয়মিতভাবে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করতে হবে এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার ভিত্তিতে কার্যক্রম পরিচালনা এবং তা নিয়মিত মনিটরিং নিশ্চিত করতে হবে। ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন বন্ধকরণ, রাস্তা নিয়মিত পরিষ্কারকরণ, পানি ছিটানো, নির্মাণ কাজ চলাকালে পানি ছিটানো এবং নির্মাণ সামগ্রী আচ্ছাদন দ্বারা আবৃতকরণ, কঠোর আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করতে হবে। অভ্যন্তরীণ কক্ষের অর্থাৎ সাধারণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষের বায়ু দূষণের পরিমাণ বাইরের বায়ু দূষণের চেয়ে প্রায় ১০ গুণ বেশি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১০০ গুণ বেশি হয়ে থাকে। বাংলাদেশের শতকারা ৯০-৯৫ সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহের রোগীদের বায়ু দূষণের মাধ্যমে সংক্রমিত না হওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। এমনকি অস্ত্রোপচার কক্ষ ও আইসোলেশন কক্ষসমূহের মত স্পর্শকাতর কক্ষসমূহের বায়ু দূষণমুক্ত করার কোনো ব্যবস্থা নেই। কোনো জীবাণু ধ্বংস করার কোনো ফিল্টারেশন, বাতাসের চাপ ও বেগ রক্ষাকরণ, ভেন্টিলেশন, বাতাস পরিবর্তন ও ফ্রেশ বাতাস আনয়নের কোনো ব্যবস্থ্া নেই। এর কারণে অভ্যন্তরীণ বায়ু দূষণ বহিরঙ্গের বায়ু দূষণের চেয়ে অধিকমাত্রায় বেশি। রোগীদের মাধ্যমে বাতাসে মিশে থাকে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস প্রভৃতি জীবাণু। তাই বায়ু দূষণের কারণে রোগাক্রান্তদের সুচিকিৎসার জন্য সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে বিশেষ ব্যবস্থাগ্রহণ করতে হবে। বায়ুদুষণের মাত্রা কমিয়ে আনার জন্য সরকার, সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা আবশ্যক। নগরবাসীর স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে অচিরেই বায়ু দূষণের উৎসসমূহ বন্ধ করতে হবে। বায়ু দূষণের সকল উৎস বন্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।
লেখক : কলামিস্ট ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়