জনগণের আস্থার প্রতিদান দিতে পারিনি : বিদায়ী দুদক চেয়ারম্যান

0
0

নিজস্ব প্রতিবেদক
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বিদায়ী চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, ‘জনগণের আস্থার প্রতিদান সেভাবে দিতে পারিনি। আমি চেষ্টা করেছি। তবে একটি বার্তা দিতে পেরেছি যে কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।’
তিনি বলেন, আমার চেষ্টা ছিলো প্রতিষ্ঠান হিসেবে দুর্নীতি দমন কমিশনকে ( দুদক) একটি ভালো অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার। চেষ্টা করেছেন। তবে তৃপ্ত নন। কারণ জনগণের আস্থার প্রতিদান কমিশন সেভাবে দিতে পারেনি। জনআকাক্সক্ষা পূরণ হয়নি। তবে, একটি বার্তা দিতে পেরেছেন যে, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। আর এটাকে সফলতা হিসেবে ধরা যায়। এই একটি বার্তা নিয়েই বিদায় নিচ্ছেন তিনি।
সোমবার সকাল ১১ টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে বিদায়ী সংবাদ সম্মেলন তিনি এ মন্তব্য করেন।
ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘আমি এসেছিলাম যাওয়ার জন্য, মানুষ জন্ম নেয় আবার যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকে। এই দীর্ঘ পাঁচ বছরে আমরা চেষ্টা করেছি। সফলতা বা ব্যর্থতার কোনো উত্তর আমি দিতে পারবো না। কেউ দিতে পারবে কি না, আমি জানি না। আমি যদি উত্তর দেই সেটা হবে পক্ষপাতমূলক। কাজ করতে গেলে ভুল হবেই, আমার আচরণে কেউ আহত হলে ক্ষমা করে দেবেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা কখনো নিজের ব্যক্তিগত কোন লাভের জন্য কাজ করিনি। সফলতা সেটা সবার তবে কোনো ব্যর্থতা থাকলে তার দায়ভার আমার। চেষ্টা করেছি দুর্নীতি দমন কমিশন প্রতিষ্ঠানটিকে একটি জায়গায় নিয়ে যেতে। আমরা সমাজের সর্বস্তরে একটি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছি, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। আমি বিবেকের কাছে পরিষ্কার মানসিকতা নিয়ে যাচ্ছি। একটি প্রতিষ্ঠানের সমালোচনা থাকবে। আর সেটা না থাকলে আপনি এগোতে পারবেন না।’
বিদায় বেলায় কি নিয়ে যাচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে বিদায়ী দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমার তেমন কোনো তৃপ্তি নেই। তার কারণ হচ্ছে, জনগণ যেভাবে চায়, দুদকের প্রতি জনগণের আস্থা যেভাবে রয়েছে, তার প্রতিদান দিতে পারিনি। এই পাঁচ বছরে জনগণের আস্থার সেই প্রতিফলন সেভাবে দেখাতে পারিনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘একটি মাত্র তৃপ্তি নিয়ে যাচ্ছি, সমাজে সর্বস্তরে একটি বার্তা দিতে পেরেছি। আমাদের বারান্দায় অনেক লোক এসেছে। যারা সমাজে যথেষ্ট ক্ষমতাবান এবং শক্তিশালী। এই যে তাদেরকে আনা গেছে, এর মধ্য দিয়ে সমাজে একটি বার্তা দেওয়া গেছে। তবে সরকার বা সরকারের কোনো এমপি বা মন্ত্রীর তরফ থেকে আমার ওপর কোন চাপ ছিলো না। একজন মন্ত্রী শুধু আমার কাছে এসেছিলেন চা খেতে কিন্তু তিনি আমার বন্ধু।’
বেসিক ব্যাংকের বিষয়ে জানতে চাইলে বিদায়ী চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা ৬৫টি মামলা করেছি। আরও মামলা হবে। একটি মামলায় চার্জশিট হবে না কি হবে, সেটা আমি বা আপনি বলতে পারি না। আমরা বলতে পারি, রিপোর্ট হচ্ছে না কেনো? সেই রিপোর্ট একবার দিয়েছিলো কমিশনে আমার মনে আছে। কিন্তু সেটি মনোপুত না হওয়ায় আবার আমরা ফেরত দিয়েছি। এমনকি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সময় মতো রিপোর্ট না দেওয়ায় আমরা তাদের শোকজও করেছি।’
প্রসঙ্গত, ইকবাল মাহমুদ ২০১৬ সালের ১০ মার্চ দুদক চেয়ারম্যান হিসাবে মো. বদিউজ্জামানের স্থলাভিষিক্ত হন। তিনি দুদকের চতুর্থ চেয়ারম্যান হিসেবে মঙ্গলবার (৯ মার্চ) তার মেয়াদ শেষ করবেন।