জাতীয় পার্টি কারো দয়া বা ভিক্ষার রাজনীতি করে না : জি এম কাদের

0
1

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি বলেছেন, জাপা মহাজোটে নেই, আমরা কোনো জোটেই নেই। জাপা আওয়ামী লীগ বা বিএনপির বি-টিম নয়। নির্বাচনের সময় কিছু আসনে সমঝোতা হয়েছে, তবে বেশিরভাগ আসনেই জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা শেষ সময় পর্যন্ত মাঠে লড়াই করেছেন।
বৃহস্পতিবার জাপার বনানী কার্যালয়ে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক যৌথ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় পার্টি নিজস্ব রাজনীতি নিয়ে মাঠে আছে এ কথা উল্লেখ করে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, নিজস্ব স্বকীয়তা নিয়ে রাজনীতির মাঠে এগিয়ে যাচ্ছি আমরা।
তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি প্রতাপের সাথে নয় বছর দেশ পরিচালনা করেছে। দেশ পরিচালনায় সুশাসন ও উন্নয়নের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য আছে। দেশ ও মানুষের অধিকারের প্রশ্নে জাপা প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় কখনোই আপস করছে না। জাতীয় পার্টি কারো দয়া বা ভিক্ষার রাজনীতি করেনা। কারো করুণা নয়, সম্মানের জন্য রাজনীতি করছে জাতীয় পার্টি।
জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের আরো বলেন, ১৯৯১ সালের পর থেকে দেশে সাংবিধানিকভাবেই একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এতে আনুষ্ঠানিকভাবেই দেশে বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে। যারাই সরকার গঠন করে তারা আইনের ঊর্ধ্বে থেকে দুর্নীতি ও লুটপাটে জড়িত। উপজেলা পর্যায়ের নেতারাও বিদেশে হাজার কোটি টাকা পাচার করছে। পেশি শক্তি, কালো টাকা আর প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে কলুষিত করছে নির্বাচন ব্যবস্থা। একটি দলের প্রার্থীরাই নির্বাচনে জিতছে তাই রাজনীতির মাঠে অন্য দলগুলোর টিকে থাকাই দুরূহ হয়ে পড়েছে। দুর্নীতি ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে রাজনীতি করছে জাতীয় পার্টি। জাতীয় পার্টি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়তে রাজনীতি করছে। কোনো নির্যাতনে মাথা নত করবে না জাপা।
রাষ্ট্র ক্ষমতায় না থাকলে রাজনৈতিক দলগুলো দুর্বল হতে থাকে এ কথা উল্লেখ করে এরশাদের এ ছোট ভাই বলেন, আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে আমাদের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করেছে। তার আগে আওয়ামী লীগ দুর্বল থাকলেও এখন রাষ্ট্র ক্ষমতায় থেকে সুপার পাওয়ার হয়ে গেছে। বিএনপিও অনেক দিন রাষ্ট্র ক্ষমতার বাইরে থেকে অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। কিন্তু জাতীয় পার্টি আরো বেশি সময় পর্যন্ত রাষ্ট্র ক্ষমতার বাইরে থাকার কারণে দুর্বল হয়েছে। তাই এখনই রাজনীতির মাঠে জাতীয় পার্টি ঘুরে দাঁড়াবে।
বিএনপি ও আওয়ামী লীগের পালিত কিছু বুদ্ধিজীবী জাতীয় পার্টি ও পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে নিয়ে মিথ্যাচার করছে জানিয়ে জি এম কাদের বলেন, ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করেননি। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তার বৈধভাবেই সেনা প্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের হাতে রাষ্ট্র ক্ষমতা হস্তান্তর করেছেন। তাতে দেশের মানুষ খুশি হয়েছিলেন। কারন, দেশের মানুষ তখন একটি পরিবর্তন প্রত্যাশা করেছিল। ঐ সময় শুধু বিএনপি ছাড়া আওয়ামী লীগসহ সকল রাজনৈতিক দলগুলো সেনা প্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের রাষ্ট্র ক্ষমতা গ্রহণকে সমর্থন করেছিলেন। নয় বছর রাষ্ট্র পরিচালনায় হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ দেশে উন্নয়ন ও সুশাসনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আইনের শাসন ও মানুষের আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তাও নিশ্চিত হয়েছিল।
জাপা চেয়ারম্যান বলেন, তিন জোটের রূপরেখা অনুযায়ী চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে বৈধভাবেই রাষ্ট্র ক্ষমতা হস্তান্তর করেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। কিন্তু তৎকালীন সরকার তিন জোটের রূপরেখার সকল অঙ্গীকার ভঙ্গ করে এরশাদকে জেলখানায় বন্দি করা হয়। তখন পল্লীবন্ধুর নামে কোন অভিযোগ ছিলো না।
জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান এরশাদ কখনোই জনগণ থেকে প্রত্যাখ্যাত হননি, তিনি মৃত্যুর পরেও গণমানুষের দোয়া ও ভালোবাসায় সিক্ত এ কথা উল্লেখ করে জি এম কাদের বলেন, তাই জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীরা রাজনীতির মাঠে মাথা উঁচু করে কথা বলবে। কারণ, জাতীয় পার্টি ও পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রাজনীতির নিয়ামক শক্তি হিসেবে ছিলেন।
দলের মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেছেন, দেশে মানুষের ভোটের অধিকার নেই। দেশে নির্বাচনের নামে প্রহসন চলছে, তাই ভোটের প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ নেই। দুর্নীতি, দুঃশাসন আর লুটপাটের রাজনীতির বিরুদ্ধে জাতীয় পার্টির সংগ্রাম চলবে। ’৯১ সালের পর থেকেই জাতীয় পার্টির ওপরে নির্যাতন চলছে কিন্তু কোন নির্যাতন জাতীয় পার্টিকে সত্য ও ন্যায়ের আন্দোলন থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। সংসদে ও রাজপথে জাতীয় পার্টি দেশ ও মানুষের অধিকার নিয়ে সোচ্চার থাকবে।
তিনি বলেন, জাতীয় পার্টির ইতিহাস সুশাসন ও আইনের শাসনের ইতিহাস। জাতীয় পার্টির রাজনীতি স্পষ্ট, জাতীয় পার্টি গণমানুষের স্বার্থরক্ষার রাজনীতি করছে।
বক্তব্য রাখেনÑ জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান এডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহিদুর রহমান টেপা, প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা শেরিফা কাদের, হেনা খান পন্নি, মোস্তাকুর রহমান মোস্তাক, মোস্তফা আল মাহমুদ, এইচ এম শাহরিয়ার আসিফ, মো. বেলাল হোসেন, আলাউদ্দিন আহমেদ, মো. নিজাম উদ্দিন সরকার, মো. জাকির হোসেন মৃধা, শেখ মোহাম্মদ শান্ত, ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, মো. ইব্রাহিম খান জুয়েল প্রমুখ।