টিকা নিবন্ধনে শুধু জাতীয় পরিচয়পত্র কেন

0
43

ড. মোস্তাফিজুর রহমান :

করোনায় মৃত্যু এবং আক্রান্তের হার চরমে পৌঁছেছে। গত এক সপ্তাহ ধরে মৃত্যুহার দু’শো ছুঁয়েই রয়েছে। এই ভয়াল মৃত্যুহার দেখে অনেক মানুষই টিকা নেয়ার গুরুত্ব অনুধাবন করছেন। তা ছাড়া, প্রশাসন মানুষকে ভাইরাস-প্রতিরোধী টিকা নিতে উৎসাহ জুগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু টিকা নিতে নিবন্ধন করতে অনেকেই অসুবিধায় পড়ছেন। টিকা নেবার জন্য নিবন্ধনে শুধু জাতীয় পরিচয়পত্র আমলে নেয়া হচ্ছে। প্রশ্ন উঠেছে, দেশের সব মানুষেরই কী এনআইডি বা জাতীয় পরিচয়পত্র রয়েছে?

দেশের জনসংখ্যা আঠারো কোটির কাছাকাছি। জাতীয় পরিচয়পত্র কার্যক্রম যখন শুরু হয়, তখন সব মানুষের পরিচয়পত্র করা যায়নি। দেশের গহিন অঞ্চলে যাঁরা ছিলেন, সেখানে হয়তো নিবন্ধনকর্মীরা যেতে পারেননি।

যখন তাঁদের নাম নিবন্ধন করা হবে, তখন হয়তো তাঁরা কৃষিকাজ করার জন্য জমিতে ছিলেন। এ ধরনের অনেক কারণে দেশের সব প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির নিবন্ধন করা যায়নি এবং তাঁরা তাঁদের জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করতেও পারেননি। যখন নিবন্ধনের কাজ চলছিল, তখন অনেক প্রবাসী বিদেশে ছিলেন, এ কারণে তাঁরা নিজেদের পরিচয়পত্রের নিবন্ধন করতে পারেননি, ফলে এনআইডি পাননি। দেশে অনেক প্রবীণ মানুষ ছিলেন যাঁরা এনআইডির নিবন্ধন করতে পারেননি এবং পরবর্তীকালে তা পাননি। তাহলে এখন যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র নেই, তারা করোনাভাইরাস-প্রতিরোধী টিকা কীভাবে নেবেন, কীভাবে তাঁদের নাম নিবন্ধন করবেন? তাহলে কি শুধু এনআইডির ওপর ভিত্তি করেই ভাইরাস-প্রতিরোধী টিকার নিবন্ধন করা হবে? যাঁদের এনআইডি নেই, তারা কি টিকা পাবেন না? এটি হলে দেশের অনেক মানুষই টিকা নিতে পারবেন না। বিষয়টি বেশ জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। দেশের সব মানুষকে টিকার আওতায় আনতে হলে বিকল্প পদ্ধতির ব্যবস্থা রাখতে হবে। তাহলেই সব মানুষকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হবে।

অনেকের এনআইডি না থাকলেও জন্ম নিবন্ধন সনদ, পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্স রয়েছে। অনেকের কর্মক্ষেত্রের আইডি কার্ড রয়েছে মাত্র, যাঁরা ষাটোর্ধ্ব, এছাড়া তাঁদের আর কিছুই নেই। প্রবাসী অনেক শ্রমিক যাঁরা করোনাভাইরাস সংক্রমণের পর দেশে ফিরে এসেছেন, তাদের এনআইডি নেই। এ পরিস্থিতিতে কেবল জাতীয় পরিচয়পত্রের সূত্র ধরে করোনাভাইরাস-নিরোধী টিকা দেয়ার নিবন্ধন করার পদ্ধতি চালু থাকলে দেশে অনেক মানুষ টিকা নেয়ার সুযোগ পাবেন না। এমনকি যাদের জন্মনিবন্ধন সার্টিফিকেট রয়েছে কিন্তু এনআইডি নেই, তারা কীভাবে টিকা পাবার নিবন্ধন করবেন?

বৃহস্পতিবারও মারা গেছেন দু’শোর কাছাকাছি মানুষ। মৃত্যু হয় ১৯৯ জনের এবং আক্রান্ত ছিল এযাবতকালের সর্বোচ্চ, ১১ হাজার ৬৫১ জন। এ কারণে খুবই দ্রুত আমাদের সব মানুষকে টিকাকরণ নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য সরকারকে দেশের মানুষের টিকা কার্যক্রমে নিবন্ধনের পদ্ধতি দ্রুত পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে।

আমরা বলতে চাই, যাদের জন্মসনদ রয়েছে, পাসপোর্ট রয়েছে, ড্র্রাইভিং লাইসেন্স রয়েছে, ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড রয়েছে, তাদের সেই দলিলের ভিত্তিতে নিবন্ধন কর্মটি সম্পাদন করে টিকা দেয়ার তালিকাভুক্তি করা যেতে পারে। এছাড়া বিকল্প কোনো পদ্ধতি থাকলে তা অনুসরণ করে দেশের মানুষকে টিকাকরণ করার কথা সরকারকে ভাবতে হবে। এক কথায়, দেশের মানুষকে টিকার আওতায় আনতে হলে এনআইডির বিকল্প পন্থা গ্রহণ করতে হবে যার মাধ্যমে মানুষ করোনাভাইরাসের মরণছোবল থেকে রক্ষা পেতে অন্তত টিকা নেয়ার সুযোগ পায়।

লেখক :  দৈনিক বাংলাদেশ সময় এর সম্পাদক