‘ধনীদের পানির বাড়তি দাম নির্ধারনের কথা ভাবছে ওয়াসা’

0
4

নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাজধানীতে পানি সরবরাহকারী সংস্থা হিসেবে কাজ করছে ঢাকা ওয়াসা। সেবা সংস্থাটির দেয়া পানি নগরির প্রতিটি এলাকায় একই দাম নিচ্ছে। এক্ষেত্রে সমাজের উচ্চবিত্তরা যে দামে ওয়াসার পানি পাচ্ছেন, একই দামে পানি কিনতে হচ্ছে নগরে বসবাসকারী নিম্নআয়ের মানুষদের। নগরীর বস্তি এবং নিম্নআয়ের মানুষের বাস এসব এলাকায় বর্তমান মূল্যে পানি সরবরাহ করে অপেক্ষাকৃত ধনীদের জন্য পানির বাড়তি দাম নির্ধারনের কথা ভাবা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান।

শনিবার (১৯ ডিসেম্বর) কারওয়ান বাজারস্থ ওয়াসা ভবনে ‘নিম্ন আয় এলাকার আদর্শ গ্রাহকের সম্মাননা স্মারক বিতরনী’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ঢাকা ওয়াসা, ওয়াটারএইড বাংলাদেশ এবং দুঃস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্র (ডিএসকে) যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

তাকসিম এ খান বলেন, পানির যা উৎপাদন খরচ তার চেয়ে অনেক কমে দিচ্ছি। বাকীটা সরকার আমাদের দিচ্ছে। দুঃখের বিষয় হচ্ছে এই সুবিধাটা বড় লোকরাও পাচ্ছে। আমরা সবাইকে এক রেটে কেন পানি দেব! যারা নিম্ন আয়ের তাদের মানুষ আছে। সব শ্রেনীর মানুষের জন্য পানির দাম এক হওয়া উচিত না। আমরা চিন্তাভাবনা করছি, এলাকাভিত্তিক পানির দাম নির্ধারণ করব। পানির দাম কমানো হয়ত সম্ভব না। কিন্তু অন্যান্য জায়গায় দাম বাড়বে।

ওয়াসা নগরির বস্তিগুলো বৈধ পানি সুবিধা দিচ্ছে ঢাকা ওয়াসা। আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে নগরির সকল বস্তিকে বৈধ পানির আওতায় নিয়ে আসার আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ২০১০ সাল থেকে আমরা পানিকে জাতিসংঘ ঘোষিত মানুষের মৌলিক অধিকার বিবেচনা করে বস্তি এলাকায় বৈধ পানি দিচ্ছি। তাদের হোল্ডিং নাম্বার নেই, তারপরেও আমরা তাদেরকে পানি দিচ্ছি। আমরা আশা করছি, ২০২১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ঢাকা শহরের বস্তিগুলোকে বৈধ পানির আওতায় নিয়ে আসতে পারব।

নিম্ন আয় এলাকার আদর্শ গ্রাহকের সম্মাননা স্মারক বিতরনী অনুষ্ঠানে রাজধানীর বিভিন্ন বস্তি ২৫ জনকে সম্মাননা প্রদান করে ওয়াসা। এই ২৫ জন ব্যক্তি তাদের নিজ নিজ বস্তির সকলে নিয়ে ওয়াসার বৈধ পানির সংযোগ ব্যবহার করেন এবং সময় মতো বিল পরিশোধ করেন। তাদেরকে উদ্দ্যেশ্য করে ওয়াসা এমডি বলেন, মুম্বাইর বস্তিতে পানি ব্যবস্থাপনা মাস্তানদের আওতায়। করাইল বস্তির পানিও মাস্তানদের হাতে ছিল। আমরা সেটাকে বৈধতার মধ্যে নিয়ে আসতে পেরেছি। সেখানকার গ্রাহকরা আজ এখানে সম্মাননা নিতে এসেছেন। এই শহরের অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তি আছে। যাদের টাকার কোনো অভাব নাই। কিন্তু তাদের কাছে আমাদের ৭০ লাখ টাকা বকেয়া আছে। কিন্তু বস্তির মানুষের কাছে আমাদের ১০০ টাকাও বকেয়া নেই।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ঢাকায় দুই কোটির বেশি মানুষ। লাখ লাখ দরিদ্র মানুষ। তাদেরও পানি দরকার। ওয়াসা ৯০ শতাংশ মানুষকে পানি সরবরাহ করছে। পদ্মার পানিকে, মেঘনার পানিকে পরিশোধন করে আপনার বাড়িতে পৌছে দেয়া হচ্ছে। কিন্তু সেটার বিল আপনি দিচ্ছেন না।

দেশের পার্বত্য অঞ্চল সহ সর্বত্র বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের সব বড় বড় শহরে সার্ফেজ ওয়াটারের ব্যবস্থা করছি। নদীর পানিকে পরিশোধন করে খাবার ও ব্যবহার উপযোগী করা হচ্ছে। মাটির নিচ থেকে আমরা পানি তুলব না। ২০৩০ সালের মধ্যে সারাদেশের মানুষকে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হবে।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (পানি সরবরাহ অনুবিভাগ) মুহাম্মদ ইব্রাহিম ও ওয়াটার এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর হাসিন জাহান এবং দুস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের (ডিএসকে) নির্বাহী পরিচালক ডা. দিবালোক সিংহসহ ঢাকা ওয়াসা, ওয়াটারএইড বাংলাদেশ এবং ডিএসকের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।