বাংলাদেশে টিকা নিচ্ছেন কূটনীতিকরা

0
0

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকায় অবস্থানরত বিদেশি কূটনীতিকদের করোনাভাইরাসের টিকা দেয়া শুরু করেছে সরকার।
বুধবার বিকালে মহাখালীর শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট হাসপাতালে এই টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
প্রথম দিনে সেখানে ঢাকায় ডিপ্লোমেটিক কোরের ডিন ভ্যাটিক্যান সিটির রাষ্ট্রদূতের পাশাপাশি ভারত, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জার্মানি, তুরস্ক, ফ্রান্স, ইতালি, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশের মিশন প্রধানসহ প্রায় ৩০ কূটনীতিক টিকা নেন।
টিকা নিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনও।
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার বলেন, বাংলাদেশে যত দেশের কূটনীতিক আছেন, সকলের জন্য আমরা আলাদাভাবে এখানে আয়োজন করেছি। আজকে ৩০ জনেরও অধিক কূটনীতিক আছেন। পর্যায়ক্রমে ১২শ’র বেশি কূটনীতিক বাংলাদেশে যারা আছেন, তারা সকলেই ভ্যাকসিন নেবেন।’
কূটনীতিকদের টিকা দেয়ার জন্য শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন নির্দিষ্ট করে দেয়া হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বিদেশি মিশনের বাইরে আন্তর্জাতিক সংস্থার দপ্তরে কর্মরত বিদেশিদের তালিকাও চেয়েছে সরকার। তারাও এ হাসপাতাল থেকে টিকা নেবেন। টিকা নিয়ে আমরা যেমন আত্মবিশ্বাসী, তারাও (কূটনীতিক) তেমন আত্মবিশ্বাসী।
টিকাদানে বাংলাদেশের সাফল্যের কথা তুলে ধরে শাহরিয়ার আলম বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশ এখনও কিন্তু এই লেভেলে ভ্যাকসিন কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি, আমরা গতকাল পর্যন্ত লক্ষাধিক মানুষকে ভ্যাকসিনেট করেছি।
আরও টিকা পাওয়ার ক্ষেত্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিন অ্যান্ড ইমুনাইজেশনের (গ্যাভি) আওতায় খুব বড় সংখ্যায় ভ্যাকসিন পাওয়ার কথা রয়েছে আমাদের, সামনের দিনগুলোতে।’
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত প্রায় আড়াই হাজার রাশিয়ান নাগরিকের জন্য স্পুৎনিক-৫ টিকা আনার বিষয়ে সম্মতি দেওয়ার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, তারা আমাদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, তারা যদি তাদের দেশের নাগরিকদেরে জন্য তাদের দেশের স্পুৎনিক টিকাটি প্রয়োগ করতে চান, আমরা ফ্যাসিলিটেড করতে পারব। সেটাতেও আমরা সম্মতি দিয়েছি।’
টিকা নিয়ে ঢাকায় কূটনৈতিক কোরের ডিন আর্চবিশপ জর্জ কোশারি বলেন, এখান কূটনীতিকদের পক্ষ থেকে টিকাদান শুরুর জন্য আমি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। কোভিড-১৯ মহামারী এই দেশের বিভিন্ন দিকে চরমভাবে আঘাত করার মধ্যে এই উদ্যোগকে আমি সাধুবাদ জানাই।
সবাইকে টিকা নেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দয়া করে সবাই টিকা নিন, যাতে মহামারী ক্ষীণ হয়ে আসে এবং দেশ অগ্রসর হতে পারে। কোভিড-১৯ টিকার ক্ষেত্রে সরকারের উদ্যোগকে সহায়তা করুন।’
ঢাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত রেনজি টিরিংক বলেন, ‘এমন উদ্যোগের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ, কোনো ধরনের লাইন ছাড়া টিকা নেওয়া যাচ্ছে। এর মাধ্যমে আমরা টিকাদানের ক্ষেত্রে ভালো উদাহরণ তৈরি করতে পারি এবং এটা মানুষের মধ্যে আস্থা আনবে। আমি মনে করি, এই আয়োজনের উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষকে দেখানো যে, বিদেশি কূটনীতিকরাও আস্থা সহকারে টিকা নিচ্ছে। আমাকে টিকা নিয়ে ইউরোপ যেতে হচ্ছে না, আমি এখানেই তা করতে পারছি এবং আজকেই সেটা করেছি।’
ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সহযোগিতা কোন পর্যায়ে রয়েছে, এটা তার প্রতিফলন। এক্ষেত্রে সহজ বাস্তবতা হচ্ছে, দুই দেশকে একইসঙ্গে টিকাদান কর্মসূচি চালাতে হবে। ভারত, বাংলাদেশ ও আমাদের প্রতিবেশীরা একইসঙ্গে টিকা নিতে হবে।’