বিএনপি চসিক ভোটে সহিংসতা ছড়িয়েছে : তথ্যমন্ত্রী

0
2

নিজস্ব প্রতিবেদক
তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে সহিংস আচরণ করেছে। তারা বিভিন্ন জায়গায় হামলা চালিয়েছে, এমনকি ইভিএম মেশিনও ভেঙে দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয় সভাকক্ষে ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের নবনির্বাচিত কমিটির সঙ্গে সাক্ষাৎ ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদের নেতৃত্বে নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যরা।
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রথমত সেখানে ভোটার টার্নআউট কম হওয়ার প্রধান কারণ করোনা। দ্বিতীয়ত, নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করলেও শেষের দিকে তারা হাল ছেড়ে দিয়ে ঘরে বসে ছিল। তবে নির্বাচনের দিন তারা কিছু সহিংসতা করেছে, বিশেষ করে তাদের কাউন্সিলর প্রার্থীরা, এমন বিভিন্ন জায়গায় তারা আক্রমণ চালিয়ে ইভিএম ভেঙে দিয়েছে, আক্রমণ চালিয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক শফিকুল ইসলামের ছেলেকে তারা আহত করেছে, আরও বেশ কয়েকজন তাদের হামলায় আহত হয়েছে।
‘কার্যত নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করার জন্য বিএনপির যেভাবে মাঠে থাকা প্রয়োজন ছিল সেভাবে মাঠে ছিল না। যে সহিংসতাগুলো হয়েছে সেগুলো কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যেই হয়েছে। এর মধ্যে একটি ঘটনা ভাই-ভাইয়ের মধ্যে, এক ভাই আরেক ভাইকে হত্যা করেছে।
হাছান মাহমুদ বলেন, সার্বিকভাবে আমি বলবো বাংলাদেশে সিটি করেপোরেশন নির্বাচন বা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সব সময় ছোট খাটো ঘটনা ঘটেছে। এটি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের বিভিন্ন রাজ্য এবং পশ্চিম বাংলায়ও এ ধরনের ঘটনা ঘটে। কলকাতা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সময় এবং ২০১৮ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় ১৯ জন মানুষ মারা গেছেন। সে ধরনের ঘটনা তো চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ঘটেনি। ভোটার টার্নআউট যদিও কম, তবে করোনার মধ্যে সেটি আশা করাও সঠিক নয়।
নির্বাচনের ফলাফল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম শহরে প্রকৃতপক্ষে ১৯৯৪ সালের পর কার্যত বিএনপি কখনো সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জয়লাভ করেনি। ২০১০ সালে মঞ্জুর আলম মঞ্জু সাহেবকে তারা মনোনয়ন দিয়েছিলেন, তিনি কিন্তু আওয়ামী লীগের মানুষ। সারাজীবন তিনি আওয়ামী লীগ করেছেন, বিএনপির আহ্বানে তিনি হায়ারে খেলতে গিয়েছিলেন। তখন কিন্তু প্রতীকবিহীন নির্বাচন হয়েছে। যেহেতু তিনি দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে কাজ করেছেন, তিনি বঙ্গমাতার নামে একটি ফাউন্ডেশন করেছেন সেটির অধীনে একটি স্কুল এখনো চালান। সে কারণে আওয়ামী লীগের বহু লোক তার পক্ষে কাজ করেছে। হায়ারে একজন প্লেয়ার ভাড়া করে একবার একটা রেজাল্ট পেয়েছিল, ৯৪ সালের পর থেকে আসলে তারা কোনো ফল পায়নি।
চট্টগ্রাম শহর আওয়ামী লীগের ঘাঁটি উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এবারও বিএনপির কোনো কাউন্সিলর প্রার্থী জয়লাভ করেনি। নির্বাচনের সময় তারা এজেন্টকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ করছে, কিন্তু এজেন্ট তো যায়নি, বের করবে কাকে। বেশিরভাগ জায়গায় বিএনপির এজেন্ট যায়নি। সুতরাং যে অভিযোগগুলো করছে এগুলো মুখ রক্ষার জন্য অভিযোগ।