বিএনপি জনগণ থেকে দূরে সরে গেছে: তথ্যমন্ত্রী

0
2

নিজস্ব প্রতিবেদক

নতুন বছরে বিএনপি নেতিবাচক রাজনীতির ধারা থেকে বেরিয়ে ইতিবাচক রাজনীতিতে ফিরে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, বর্তমান নেতাদের নেতৃত্বে বিএনপি জনগণ থেকে ক্রমাগত দূরে সরে গেছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, করোনাকালে যেভাবে জনগণের পাশে থাকার দরকার ছিল, বিএনপি ও তার মিত্ররা সেভাবে থাকেনি। সরকারের প্রতি বিষোদগার ও সংবাদ সম্মেলনের মধ্যেই তাদের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ ছিল। জনগণকে নয়, বিএনপি তাদের হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও দলীয় স্বার্থকেই প্রাধান্য দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষ থেকে জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট (এনআইএমসি) আয়োজিত ‘মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ও গণমাধ্যম’ শীর্ষক অনলাইন সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতা শেষে বছরের শেষদিন উপলক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এনআইএমসির মহাপরিচালক শাহিন ইসলামের সভাপতিত্বে সেমিনারে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান, তথ্যসচিব খাজা মিয়া এবং মন্ত্রণালয়ের সংস্থা প্রধানরা।

নতুন বছরে বিএনপির চ্যালেঞ্জ সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে হাছান মাহমুদ আরও বলেন, বিএনপি নিজেরা চোখ বন্ধ করে অন্ধকারের মধ্যে আছে। সেজন্য তারা চারদিকে অন্ধকার দেখছে। আশা করবো, বিএনপি আগামী বছর চোখ খুলে আলো দেখবে।

আওয়ামী লীগের চ্যালেঞ্জ নিয়ে তিনি বলেন, যুগ যুগ ধরে সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই আওয়ামী লীগ এগিয়ে গেছে, যাচ্ছে। গত ১২ বছর ধরে চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়েও আওয়ামী লীগ দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। নতুন বছরেও তার কোনো ব্যতিক্রম হবে না। আমরা দলকে আরো সুসংগঠিত করতে চাই।সুযোগসন্ধানীদের স্বার্থ হাসিলের কারণে যাতে দল ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে দলীয় পদ থেকে বাদ দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। নতুন বছরও সেটি অব্যাহত থাকবে।

তথ্যমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন, নতুন বছরে স্রষ্টার কৃপায় পৃথিবী থেকে করোনা দূরীভূত হবে। আমরা আবারও মুক্ত পৃথিবীতে মুক্তভাবে শ্বাস নিতে পারবো। পৃথিবীর মানুষ আবারও আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারবে।

তিনি বলেন, করোনাপীড়িত ২০২০ সালেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশ যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, তা বিশ্বে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধির দেশগুলোর অন্যতম। এই বছরে দেশের অন্যতম বড় অর্জন হচ্ছে- বৈদেশিক সাহায্য ছাড়া সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতুর নির্মাণ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। করোনাকালেও বাংলাদেশে মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে। করোনার প্রতিবন্ধকতা জয় করে শারীরিক-সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সরকারযন্ত্র, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখা সম্ভব হয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞের আশঙ্কা ভুল প্রমাণ করে মহামারিতে একজন মানুষও না খেয়ে মৃত্যুবরণ করেনি।