বিএনপি স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতির জনক : কাদের

0
1

নিজস্ব প্রতিবেদক
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘দেশবিরোধী শক্তি বিভিন্ন সময়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করেছে। কিন্তু নতুন প্রজন্ম এখন সঠিক ইতিহাস জানতে পারছে। বিএনপি এদেশে স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতির জনক এবং মুখোশের আড়ালে স্বাধীনতাবিরোধী উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর এজেন্ডা বাস্তবায়নের পৃষ্ঠপোষক।’
শনিবার নিজের সরকারি বাসভবনে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
বিএনপি নেতাদের ‘সরকার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ইচ্ছেমত রচনা করছে’ অভিযোগের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে দীর্ঘদিন ধরে তাদের নেতৃত্বে স্বাধীনতার চেতনাবিরোধী অপশক্তি যেভাবে ইতিহাস বিকৃতি ঘটিয়েছে, তার বিপরীতে নতুন প্রজন্ম এখন সত্যিকারের ইতিহাস জানতে পারছে। কারা মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ককে সপরিবারে হত্যার বেনিফিশিয়ারি, কারা এদেশে খুনিদের বিচার চাওয়ার অধিকার হরণ করেছিলÑ তা নতুন প্রজন্ম জানতে পারছে বলে বিএনপির গাত্রদাহ শুরু হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আগামীকাল সারাদেশে চতুর্থ ধাপের ৫৫টি পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। শেখ হাসিনা সরকার জনগণের মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী এবং গণতান্ত্রিক মূলবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আগের তিন ধাপের নির্বাচনের ধারাবাহিকতায় আগামীকালের নির্বাচনও সুষ্ঠু, অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।’
ঠাকুরগাঁওয়ে নির্বাচনি প্রচারে কেন্দ্রীয় নারী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বেগমের বক্তব্য পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়া বিষয়ে ওবায়দুল কাদেরের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, তার সঙ্গে এ নিয়ে প্রকৃত তথ্য জানতে কথা হয়েছে। তার বক্তব্যের অডিও এবং ভিডিও পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হচ্ছে। কোনও অরাজনৈতিক বক্তব্য যদি সত্যি প্রমাণিত হয় তাহলে আওয়ামী লীগ তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেন, যার যার খুশি মতো বক্তব্য কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেবে না আওয়ামী লীগ।
তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিতে বিএনপিই কৃত্রিম বাধা তৈরি করছে। বিএনপি একদিকে নির্বাচন বিমুখ রাজনীতি, অপরদিকে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র অব্যাহত রাখায় দেশের গণতন্ত্র বারবার হোঁচট খাচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের মিমাংসিত বিষয় প্রশ্নবিদ্ধ করার অধিকার কারও নেই। সরকার নাকি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ইচ্ছেমত রচনা করছে। প্রকৃতপক্ষে দীর্ঘদিন ধরে তাদের নেতৃত্বে স্বাধীনতার চেতনাবিরোধী অপশক্তি যেভাবে ইতিহাস বিকৃতি ঘটিয়েছে, তার বিপরীতে নতুন প্রজন্ম এখন সত্যিকারের ইতিহাস জানতে পারছে।’
তিনি বলেন, ‘সরকার পৌরসভা নির্বাচনে ভোটারদের অবাধ ভোটাধিকার প্রয়োগে কোনোরূপ হস্তক্ষেপ করবে না। কোনো প্রকার হানাহানি ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে ৫৫টি পৌরসভার ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে। একটি অংশগ্রহণমূলক শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে কমিশন স্বাধীন ও কর্তৃত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে বরাবরের মত আগামীকালও সক্রিয় থাকবে বলে মনে করছি।
ঠাকুরগাঁওয়ে নির্বাচনী প্রচরণায় কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বেগমের বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরে বলেন, ‘কোনো অরাজনৈতিক বক্তব্য যদি সত্যি প্রমাণিত হয় তাহলে আওয়ামী লীগ তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে।’
বৃহস্পতিবার ঠাকুরগাঁও পৌরসভার দুই নম্বর ওয়ার্ডে এক নির্বাচনী সভায় মাহমুদা বেগম বলেন, ‘যাদের মনে ধানের শীষের সঙ্গে প্রেম আছে, তারা কী করবেন, ১৩ তারিখে ঠাকুরগাঁও ছেড়ে চলে যাবেন। ১৩ তারিখ সন্ধ্যার পরে তাদের দেখতে চাই না। তাদের ভোটকেন্দ্রে আসার কোনো প্রায়োজন নাই। তাহলে ভোটকেন্দ্রে যাবে শুধু কে? নৌকা, নৌকা আর নৌকা।’
তার এ বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘প্রকৃত তথ্য জানতে তার সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলতে হবে। তার বক্তব্যের অডিও এবং ভিডিও পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হচ্ছে। কোনো অরাজনৈতিক বক্তব্য যদি সত্যি প্রমাণিত হয় তাহলে আওয়ামী লীগ তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে। যার যার খুশি মতো বক্তব্য কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেবে না আওয়ামী লীগ।’