মিয়ানমারে সর্বাত্মক ধর্মঘট

0
1

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
নির্বাচিত নেতা অং সান সু চির মুক্তি আর গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেয়ার দাবিতে মিয়ানমারে ক্রমেই জোরালো হচ্ছে বিক্ষোভ। সোমবার টানা তৃতীয় দিনের মতো আন্দোলন চলছে। এদিন দেশজুড়ে ধর্মঘটে যুক্ত হয়েছেন শ্রমিরো। বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার হাজার হাজার বিক্ষোভকারী জড়ো হয়েছে ইয়াঙ্গুন আর মান্দালয়ে। রাজধানী নেপিডোতে বিক্ষোভকারীদের ওপর ব্যবহার হয়েছে জল কামান। জোরালো হতে থাকা বিক্ষোভে চাপ বাড়ছে ক্ষমতা দখলকারী সেনা সরকারের ওপর। ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেয়ার পরদিনই তা আংশিকভাবে সচল করতে বাধ্য হয়েছে সেনা সরকার।
গত ১ ফেব্রুয়ারি ভোরে মিয়ানমারের ক্ষমতা দখল করে দেশটির সামরিক বাহিনী। এদিন অভিযান চালিয়ে রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি এবং ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের আটক করা হয়। দেশজুড়ে ঘোষণা করা হয় এক বছরের জরুরি অবস্থা। অপরদিকে সেনা অভ্যুত্থানের প্রতিবাদে মিয়ানমারে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন সু চি সমর্থকরা। এতে শামিল হয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। অব্যাহত রয়েছে বিভিন্ন আন্দোলন-কর্মসূচি। বিক্ষোভ ঠেকাতে প্রথমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং পরবর্তীতে গত শনিবার ইন্টারনেটের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। তবুও ঠেকানো যাচ্ছে না আন্দোলন।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি লিখেছে, গত সপ্তাহে অভ্যুত্থানের পর সবচেয়ে বড় বিরোধিতার মুখে পড়েছে মিয়ানমারের জেনারেলরা। সোমবার দেশজুড়ে বিপুল সংখ্যক বিক্ষোভকারী সমবেত হয়ে ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী অং সান সু চির মুক্তি দাবি করেছেন। দেশজুড়ে বিক্ষোভ নিরসন করতে জান্তা সরকার এখন পর্যন্ত প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগ থেকে বিরত রয়েছে। তবে দাঙ্গা পুলিশের ওপর চাপ বাড়তে থাকায় সোমবার রাজধানী নেপিদোর রাজপথে হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে ছত্রভঙ্গ করতে ব্যবহার হয়েছে জল কামান।
সেনা অভ্যুত্থানের বিরোধিতায় গত সপ্তাহ থেকেই মিয়ানমারে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। সোমবার গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বিক্ষোভকারীদের ভিড় আরও বেড়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দেশজুড়ে ধর্মঘটের ডাক। সোমবার সকালে রাজধানী নেপিদোতে সমবেত হয় লাখ লাখ বিক্ষোভকারী। অন্যান্য শহরগুলোতেও বিপুল সংখ্যক মানুষ সমবেত হয়ে সেনাশাসনবিরোধী শ্লোগান নিয়ে।
বিক্ষোভকারীদের মধ্যে রয়েছেন শিক্ষক, আইনজীবী, ব্যাংক কর্মকর্তা এবং সরকারি চাকুরিজীবীরা। প্রায় হাজার খানেক শিক্ষক ইয়াঙ্গুনের একটি টাউনশিপ থেকে মূল শহরের সুলে প্যাগোডা মিছিল করেছেন। এছাড়া অনলাইনে শ্রমিকদের কাজ ছেড়ে বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। গার্মেন্ট কারখানার শ্রমিক হ্নিন থাজিন ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি’কে বলেন, ‘আজ একটা কাজের দিন। তারপরও আমরা কাজে যাচ্ছি না, তাতে যদি আমাদের বেতন কাটা হয় হোক।’
রাজধানী নেপিডোতে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে জল কামান ব্যবহার করেছে। এতে বেশ কয়েক জন আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে বিক্ষোভকারীরা নিজেদের চোখ ডলছেন আর একে অপরকে সাহায্য করছেন। তবে অন্যান্য শহরগুলোতে এখনও কোনও সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। বেশ কিছু ভিডিওতে দেখা গেছে, বিপুল সংখ্যক বিক্ষোভকারী প্লাকার্ড হাতে নিয়ে এবং স্লোগান দিয়ে রাজপথে সেনা শাসনের প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর গত শনিবার মিয়ানমারে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হলেও রবিবার বিকেল থেকে আবার তা সচল হতে শুরু করেছে। ইন্টারনেট পর্যবেক্ষক সার্ভিস নেটব্লক এক টুইট বার্তায় জানিয়েছে, রবিবার স্থানীয় সময় বেলা দুইটা থেকে ইন্টারনেট সেবা আংশিকভাবে সচল হতে শুরু করেছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার এখনও বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে মোবাইল ফোনের গ্রাহকেরা ইন্টারনেট ডাটা এবং ওয়াই ফাই ব্যবহার করতে পারছেন।
গত সপ্তাহের অভ্যুত্থানের পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন সেনা শাসকরা। ব্যাপক প্রতিবাদ সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগ থেকে বিরত রয়েছে সেনা সরকার। তবে বিক্ষোভ থামাতে বল প্রয়োগ করতে দাঙ্গা পুলিশের ওপর ক্রমেই বাড়ছে বলে মনে হচ্ছে। তার জেরেই সোমবার বিক্ষোভকারীদের ওপর জল কামান প্রয়োগ হয়েছে।