লকডাউন ঘোষণায় নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির

0
0

নিজস্ব প্রতিবেদক
এমনিতেই কিছুদিন ধরে নিত্যপণ্যের মূল্য ছিল ঊর্ধ্বমুখী। শনিবার লকডাউনের খবর আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আরও অস্থির হয়ে উঠেছে বাজার।
এক শ্রেণির ক্রেতার ভিড় লেগেছে বাজারসহ পাড়ামহল্লার দোকানে। আর সেই সুযোগটি লুফে নিচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। এখন চলছে চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজসহ নিত্যপণ্য কেনাকাটার ধুম। লকডাউন শুরু হলে সব কিছু বন্ধ হয়ে যাবে- এ আশঙ্কায় নিত্যপণ্য মজুতের যেন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।
প্রতিবছর রমজান এলেই একশ্রেণির ব্যবসায়ী নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বাড়িয়ে দেয়। এ বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। শনিবার সকালে তিনি তার সরকারি বাসভবনে ব্রিফিংয়ের এ কথা বলার সঙ্গে লকডাউন দেয়ার তথ্যও জানান। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাজার নতুন করে অস্থির হয়ে উঠে।
ওবায়দুল কাদের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ‘বাজার অস্থির করার যে কোনও অপপ্রয়াস সরকার মেনে নেবে না। অহেতুক মূল্যবৃদ্ধি ও মজুতদারি নিয়ন্ত্রণে সরকার সতর্ক। ইতোমধ্যে সরকার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে। কোনও ধরনের সিন্ডিকেটের কাছে সরকার বাজার ব্যবস্থাকে জিম্মি হতে দেবে না।’ সরকার তথা মন্ত্রীর এসব হুঁশিয়ারিকে তোয়াক্কা না করেই বেড়ে গেছে তেল, পেঁয়াজ, সবজি, ডিম, আলুসহ সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম।
জানা গেছে, শনিবার সকালে ৩৫ টাকা কেজি দরের দেশি পেঁয়াজ বিকালে বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। স্থান ভেদে তা ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলেও জানা গেছে। চালের দাম আগে থেকেই চলে গেছে নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ৫৫ টাকার নিচে মোটা চাল নেই। ৭০ টাকার নিচে নেই চিকন চাল। লকডাউনের এক ঘোষণায় প্রতি ডজন ডিমে দাম বেড়েছে ১৫ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারদরের দোহাই দিয়ে ভোজ্যতেল বিশেষ করে সয়াবিন তেল আগে থেকেই বেশি দামে বিক্রি করছে কোম্পানিগুলো। এমন পরিস্থিতিতে সরবরাহ সংকটের কথা বলে বাড়তি সুযোগ নিচ্ছে ব্যবসায়ীরা। ১৪০ টাকা লিটার দরের সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৫২ টাকা লিটার দরে। আশঙ্কা করা হচ্ছে লকডাউন ঘনিয়ে এলে দাম আরও বাড়তে পারে।