সরকার ‘হটাতে’ প্রস্তুতির ডাক মির্জা ফখরুলের

0
2

নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকার ‘হটানোর আন্দোলনের’ জন্য আগাম প্রস্তুতির ডাক দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশকে যদি আমরা মুক্ত করতে না পারি, আওয়ামী লীগকে যদি সরাতে না পারি তাহলে আমরা খালেদা জিয়াকেও মুক্ত করতে পারব না। আমরা হাজার হাজার মানুষ মিথ্যা মামলা নিয়ে চেপে বসে আছি তা থেকেও মুক্ত হতে পারবো না। সেজন্য আমি আগাম আন্দোলনের প্রস্তুতির আহবান জানাচ্ছি।’

বৃহস্পতিবার রাজধানীর গোরানের একটি কনভেনশন সেন্টারে ঢাকা-১০ আসনের বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে ‘করোনা হেল্প সেল’ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের রাস্তায় নামতে হবে, রাস্তায় নেমে আসতে হবে, সোচ্চার হতে হবে এবং আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই ভয়াবহ সরকারকে পরাজিত করতে হবে। তাদেরকে বাধ্য করতে হবে- নির্বাচনকালীন একটা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনেরে পরিচালনায় সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সরকার গঠন করতে হবে। এতে জনগণ ভোট দিয়ে তার প্রতিনিধিকে নির্বাচিত করতে পারবে।’

‘আন্দোলন’ ছাড়া বিএনপির কোনো ‘বিকল্প নেই’ উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এখন আমাদেরকে উঠে দাঁড়াতে হবে। আমরা ১০-১২ বছর ধরে সংগ্রাম করছি, লড়াই করছি। আন্দোলন ছাড়া আমাদের কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে তরুণ, যুবক যারা আছেন তাদেরকে জেগে উঠতে হবে। তরুণদের মাধ্যমে, তাদের নেতৃত্বে, তাদের বীরত্ব ও তাদের সাহসিকতার মধ্য দিয়েই পরিবর্তনে আসে সবসময়। এখন কাজ করতে হবে তরুণ যুবকদের।’

গণটিকা কর্মসূচির নামে সরকার জনগণের সঙ্গে ‘প্রতারণা’ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন,‘গণটিকার কথা বলে তারা গণসংক্রমণ বাড়িয়েছে। ঠিক মতো টিকা দিতে পারে নাই। এখন টিকা বাজারে বিক্রি হচ্ছে। আপনারা মানুষকে এককথা বলবেন আর কাজ করবেন আরেকরকম। এভাবেই আপনারা জনগণের সাথে প্রতারণা করছেন।’

তিনি বলেন, এই সরকার সব ক্ষেত্রে দলীয়করণ করেছে। যেটাকে আমি বলে তারা মুখে গণতন্ত্রের কথা বলে কিন্তু একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছে। সাংবাদিকরা নিজেরা কিছু লিখতে পারেন না, সাহস করে লেখার শক্তি নাই। ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টসহ বিভিন্ন আইন দিয়ে গণমাধ্যমের মুখ বন্ধ করে দিয়েছে। এটা কোনোভাবে একটা গণতান্ত্রিক দেশ হতে পারে না, এটা সম্পূর্নভাবে একটা কর্তৃত্ববাদী ফ্যাসিবাদী দেশে পরিণত হয়েছে। এখন আমাদেরকে উঠে দাঁড়াতে হবে।’

স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘এই করোনা নিয়ে দেশে রাজনীতি হচ্ছে, এই করোনা নিয়ে ব্যবসায়িক রাজনীতি হচ্ছে, রাষ্ট্রীয় রাজনীতি হচ্ছে, জাতীয় রাজনীতি হচ্ছে। আমরা করোনা নিয়ে কোনো রাজনীতি করতে চাই না। সবাইকে নিয়ে এক সঙ্গে কাজ করে এই করোনাকে প্রতিহত করতে হবে।’

জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে ও খিলগাঁও থানা সভাপতি ইউনুস মৃধার পরিচালনায় আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু বক্তব্য রাখেন।