কামাল লোহানীর মৃত্যুতে আইসিএসডি উপদেষ্টা ড. মিঠুন মোস্তাফিজের শোক প্রকাশ

    0
    45

    বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সাংবাদিক কামাল লোহানীর মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম ফর সোস্যাল ডেভলপমেন্ট-আইসিএসডি, অস্ট্রেলিয়া’র ডিজিটাল মিডিয়া এডভাইজার ড. মিঠুন মোস্তাফিজ।

    এক বিবৃতিতে তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

    আইসিএসডি উপদেষ্টা বলেন, দেশের ঐতিহাসিক নানা ঘটনার সঙ্গে গভীর সম্পৃক্ততা ছিল সাংবাদিক কামাল লোহানীর। আন্দোলন সংগ্রামে তিনি সর্বদা মানুষের অধিকার নিয়ে সোচ্চার ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক কামাল লোহানী স্বাধীন বাংলা বেতারের সংবাদ বিভাগের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭১ সালের ২৫ ডিসেম্বর দায়িত্ব নেন ঢাকা বেতারের। ১৯৭৩ সালে ‘দৈনিক জনপদ’ পত্রিকায় যোগ দিয়ে তিনি আবার সাংবাদিকতায় ফিরে আসেন। এরপর ‘দৈনিক বাংলার বাণী’ পত্রিকায় কাজ করেন তিনি। ১৯৯১ সালে কামাল লোহানী শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরে ২০০৮ সালে আবারো তাঁকে দু’বছরের জন্য শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালকের দায়িত্ব দেয়া হয়।

    ড. মিঠুন মোস্তাফিজ বলেন, নাচের অনুরাগী ছিলেন সংস্কৃতিজন কামাল লোহানী। বুলবুল ললিতকলা একাডেমির হয়ে তাঁর নৃত্যগুরু জি এ মান্নান ‘নক্সী কাঁথার মাঠ’ প্রযোজনা করলে কামাল লোহানী তাতে অংশ নেন। ছায়ানট, উদীচী, ক্রান্তিসহ বহু সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কামাল লোহানী। ষাটের দশক থেকে রাজনীতি আর সংস্কৃতি যখন পরস্পর হাত ধরাধরি করে চলছিল, তখন তিনি ছিলেন সেই বন্ধনের একজন রূপকার।

    ভাষা সংগ্রামী, মুক্তিযোদ্ধা ও সংস্কৃতিজন কামাল লোহানী একুশে পদকে ভূষিত হন।

    ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের পক্ষে কাজ করেন কামাল লোহানী। ঐ বছর পূর্ববাংলায় ‘গভর্নরের শাসন’ চালুর পর ধরপাকড় শুরু হলে গ্রেপ্তার হন তিনি। ১৯৫৫ সালে ছাড়া পেয়ে দৈনিক ‘মিল্লাত’ পত্রিকায় যোগ দেন এবং পরে একই বছর ন্যাপের মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। ১৯৫৮ সালে সামরিক আইন জারি হলে তিনি আত্মগোপনে চলে যান।

    কর্মজীবনে কামাল লোহানী দৈনিক আজাদ, সংবাদ, পূর্বদেশ, দৈনিক বার্তায় গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ছিলেন উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের উপদেষ্টা।

    তাঁর পরিবারের সদস্যরা জানান, শনিবার সকাল ১০টা নাগাদ শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান কর্মবীর কামাল লোহানী। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। তিনি করোনা আক্রান্ত ছিলেন এবং ফুসফুস, কিডনি, হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের সমস্যায় ভুগছিলেন।
    ১৯৩৪ সালের ২৬ জুন সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার সনতলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সংস্কৃতির এই শুদ্ধ পুরুষ। তাঁর পুরো নাম আবু নঈম মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল খান লোহানী।

    ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম ফর সোস্যাল ডেভলপমেন্ট-আইসিএসডি, অস্ট্রেলিয়া’র উপদেষ্টা ড. মিঠুন মোস্তাফিজ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক কামাল লোহানীর মৃত্যুতে সিরাজগঞ্জবাসী তাদের ‘বাতিঘর’কে হারালো, একজন দেশপ্রেমিক, প্রজ্ঞাবান রাজনীতিক ও সংস্কৃতির শুদ্ধজনকে হারালো বাংলাদেশ।