সাধারণ বীমা করপোরেশনে কর্মচারী নিয়োগে ৬ মাসের স্থগিতাদেশ হাইকোর্টের

0
4

নিজস্ব প্রতিবেদক

সাধারণ বীমা করপোরেশনের মাস্টার রোলে (অস্থায়ী) নিয়োজিত কর্মচারীরা বিপাকে পড়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে তারা দায়িত্ব পালন করে আসলেও তাদের চাকরি স্থায়ীকরণ করা হচ্ছে না। বরং বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বাইর থেকে কর্মচারী নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে সংস্থাটিতে। এঘটনায় সংক্ষুব্দ কর্মচারীদের কয়েকজনে হাইকোর্টে রিট পিটিশন করেছেন। হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া ছয় মাসের জন্য স্থগিতের আদেশ দিয়েছেন।

হাইকোর্টে করা রিট পিটিশন ও ভুক্তভোগী কর্মচারীদের কাছ থেকে জানা গেছে, সরকারি বিধি মোতাবেক অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া প্রায় ৭০জন কর্মচারী কম্পিউটার অপারেটর, লিফটম্যান, এমএলএসএস ও সুইপারসহ বিভিন্ন পদে দীর্ঘ বছর ধরে কর্মরত আছেন। এদের মধ্যে কেউ ১৯৮০ সাল থেকেও কর্মরত। তাদের অনেকেরই সরকারি চাকরিতে যোগদানের বয়সসীমা অতিক্রম হয়েছে।

এছাড়া ২০১৮ সাল থেকে তাদের বেতনও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মাস্টার রোলে কর্মরত কর্মচারীদের চাকরি যথাযথ নিয়মানুযায়ী স্থায়ী না করে চলতি বছরের ২ মার্চ একটি পত্রিকায় সংশ্লিষ্ট পদগুলোতে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সাধারণ বীমা কর্তৃপক্ষ। যা মাস্টার রোলে নিয়োগর নিয়ম ও আইনের পরিপন্থী।

আগামী শুক্রবার (৮ অক্টোবর) কম্পিউটার অপারেটর পদেও নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ নিধারণ করা হয়েছে। এঘটনায় কর্মচারী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির উপর সংক্ষুব্দ কর্মচারীদের মধ্যে কম্পিউটার অপারেটর সাইফুল ইসলাম গত ২১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের লেবার আপিল ট্রাইব্যুনালে একটি রিট পিটিশন (নং (০০৭৭৫৬/২১) দায়ের করেন। এছাড়া কর্মচারী রনি, রফিক, নিপা ও আরিফুল ইসলামও আলাদা রিট পিটিশন দায়ের করেন একই আদালতে। রিটে বিবাদী করা হয়েছে শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল, ঢাকার চেয়ারম্যান, ৩য় শ্রম আদালত এবং সাধারণ বীমা করপোরেশনের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) ও মহাব্যবস্থাপককে (হিসাব রক্ষক)।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর এসব আপিলের ওপর শুনানী করে বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের আদালত ২ মার্চ প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ৬ মাসের জন্য স্থগিতের আদেশ দেন। রিট আবেদনকারীদের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন এডভোকেট মো. আহসান উল্লাহ। তিনি জানান, রিট পিটিশনের আদেশ/আইনজীবী সার্টিফিকেট সরকারি ডাকযোগে সাধারণ বীমা করপোরেশনের সংশ্লিষ্টদেও বরাবর পাঠানো হয়েছে।

এদিকে চাকরি স্থায়ীকরণের আবেদন জানিয়ে ২০১৬ সালে অস্থায়ী কর্মচারীদের পক্ষ থেকে সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে ঢাকার দ্বিতীয় শ্রম আদালতে একটি মামলা করেন (মামলা নং ১৬১/২০১৬)। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন।

পাশাপাশি মানবিক বিষয়টি বিবেচনা করে চাকরি স্থায়ীকরণের জন্য সাধারণ বীমা করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছেও লিখিত আবেদন জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কর্মচারীরা।

তারা বলছেন, তাদের সরকারি চাকরির বয়সীমা শেষ হয়ে গেছে। তাই মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদের চাকরি স্থায়ী করার দাবি জানান।