স্বাগত ২০২১

0
1

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বিচ্ছিন্নতা, আতঙ্কে মহামারীর বিষময় বছরটি বিদায় নিলো। জড়তা, ভয়কে দূরে ঠেলে আবার জেগে উঠছে মানুষ নতুন স্বাভাবিকতায়। জীর্ণ-পুরাতনের গ্লানি ভুলে নতুন সূর্যের বিচ্ছুরিত আলোয় উদ্ভাসিত হবে সুন্দর আগামীর প্রত্যাশা। বিদায় ২০২০ স্বাগত ২০২১।

আমাদের ২০২০ সাল শুরু হয়েছিল রাজনৈতিক স্থিতি আর অর্থনীতির স্বস্তি নিয়ে। কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারী সব তছনছ করে দেয়। জীবনকে করে দেয় বিপর্যস্ত। প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ করেছে, সামাজিক সম্পর্ক নষ্ট করেছে। ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে হারিয়ে গেছে একটি বছর। বহু প্রাণ ঝরে গেছে। হাজার হাজার মানুষ এখনো করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে।

এত কিছুর পর অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করলেও সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ জাগিয়ে রেখেছে শঙ্কা। সেই উদ্বেগ সঙ্গী করেই ২০২১ সালে প্রবেশ করল বাংলাদেশ।

আশার কথা হলো, এই মহামারী যতটা বিপদে বাংলাদেশকে ফেলবে বলে ধারণা করা হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে সরকারের সময়োচিত বিভিন্ন পদক্ষেপে তা অনেক ক্ষেত্রে এড়ানো গেছে। সোয়া লাখ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

করোনা-১৯ এর তা-বে জনজীবনে দারুণ অনিশ্চয়তা থাকলেও ২০২০ সালটি গেছে প্রবৃদ্ধির ভেতর। বিদায়ী বছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ হারে। প্রতিবেশী দেশ যখন নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির শিকার, যখন বিশ্ব অর্থনীতি ‘করোনা-১৯’-এ আক্রান্ত এবং মন্দার শিকার তখন ৫ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি কম কি? অর্থনীতি, ব্যবসায়-বাণিজ্য মোটামুটি স্থিতিশীল। আমদানি, রফতানি, রেমিট্যান্স, খাদ্যশস্য উৎপাদন, রাজস্ব মূল্য, মূল্যস্ফীতি ইত্যাদি বড় বড় সূচকের নিরিখে বলা যায়Ñ বছরটি শেষ হলো বেশ কিছুটা স্বস্তির খবরের মধ্যে। বছরের শেষ প্রান্তে এসে একটা আশা-জাগানিয়া খবর নতুন বছরের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদেরকে আরও সাহসী করবে। ইতিহাস গড়া খবরটি হলো স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। বর্তমানে তা ৪৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এটা দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতার অন্যতম মাইলফলক। নতুন একটি বছরের শুরুতে অবশ্যই জাতির জন্য এটি সুখকর ঘটনা। অপ্রত্যাশিত অভিঘাত কোভিড-১৯ এর মধ্যেও রিজার্ভের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে রেমিট্যান্সের অন্তঃপ্রবাহ।’

মিয়ানমারের বিপুল সংখ্যক শরণার্থীর বোঝা সত্ত্বেও বিশ্বব্যাপী চলমান ভয়াবহ মহামারীর মধ্যেও আশাতীত প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ মেয়াদকে বাংলাদেশে ‘মুজিববর্ষ’ হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন বছরে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করবে বাংলাদেশ। সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি, জীবনমান উন্নয়ন এবং জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ সামগ্রিক অর্থে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে ‘মুজিববর্ষ’ জাতির মানসপটে আলোকবর্তিকারূপে উদ্ভাসিত হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ ও অবিচল নেতৃত্বে রূপকল্প-২০৪১ বাস্তবায়নে সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে পরিকল্পিত উন্নয়নের পথে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবেÑ এমন প্রত্যাশায় শুরু হোক নতুন বছরের যাত্রা।