সড়ক দুর্ঘটনায় দুই জেলায় নিহত ১২

0
1

নিজস্ব প্রতিবেদক
দুই জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত হয়েছে। শুক্রবার সকালে সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৮ জন এবং বগুড়ায় বাসের ধাক্কায় সিএনজি অটোরিকশার চালকসহ চার জন নিহত হয়েছেন।
আমাদের সিলেট প্রতিনিধি জানান, জেলার দক্ষিণ সুরমার রশিদপুরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে আট জন নিহত হয়েছে। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে পুলিশ। দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম নিহতের এই সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন।
শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের দক্ষিণ সুরমার রশিদপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে সাত জনের মৃত্যুর কথা জানায় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রহিমা খাতুন নামের আরেক নারী মারা যান। তিনি সুনামগঞ্জের দুয়ারাবাজারের ভাওয়ামী গ্রামের মফিজ উদ্দিনের মেয়ে।
দুর্ঘটনায় নিহত অন্যরা হলেন- সিলেটের উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক আল মাহমুদ সাদ ইমরান খান (৩৩), এনা পরিবহনের চালক ওসমানীনগর উপজেলার ধরখা গ্রামের মঞ্জুর আলী (৩৮), এনার সুপারভাইজার সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার মিঠাভরা গ্রামের সালমান খান (২৫), হেলপার ধরখা গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন (২৪), ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল থানার রাজানিয়াকান্দি পশ্চিম পাড়ার নুরুল আমিন (৫০), ঢাকার ওয়ারি এলাকার নাদিম আহমদ সাগর (২৯) ও সিলেট নগরের আখালিয়া নয়াবাজারের শাহ কামাল (২৭)।
এ ঘটনায় আরও অন্তত ৩০ জন আহত হন। এর মধ্যে ১৫ জন সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
সিলেট মহানগর পুলিশ জানায়, হাসপাতালে গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিসাধীনরা হচ্ছেন- রেজাউল করিম (৫০), শামিম (২৩), জসিম উদ্দিন (৩০), আলা উদ্দিন (৬০), সায়ান (১৬), সালাম (৪০), ডা. অন্তরা (৩০), চান বিবি (৬০), শারমিন (৩০), সীমা পারভিন (৩০), সানাত (৩৫), মাহি (৭), সুবর্ণা (৩০) ও সেলিনা পারভীন (৩০)।
শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার রশিদপুরে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে লন্ডন এক্সপ্রেস ও এনা পরিবহনের দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। ‘লন্ডন এক্সপ্রেস’ বাসটির কারণেই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ ও দমকল বাহিনী। এ ব্যাপারে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সিলেটের উপ-পরিচালক কোবাদ আলী সরকার বলেন, লন্ডন এক্সপ্রেস বাসটি রাস্তার ভুল দিকে এসে এনা পরিবহনের বাসটিকে ধাক্কা দেয়। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, লন্ডন এক্সপ্রেসের ভুলেই এতোগুলো প্রাণহানি ঘটেছে। তবে দুর্ঘটনার আসল কারণ তদন্তে জানা যাবে।
এদিকে বগুড়া প্রতিনিধি জানান, বাসের ধাক্কায় সিএনজি অটোরিকশার চালকসহ চার জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার ভোরে শাজাহানপুর উপজেলার মাঝিড়া এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশ নিহতদের উদ্ধার করেছেন। এ সময় অন্তত আধা ঘণ্টা যান চলাচল ব্যাহত হয়। বগুড়া ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার বজলুর রশিদ দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নিহতদের দুই জন হলেনÑ বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার ডেমাজানি গ্রামের ক্ষিতিশ চন্দ্র দাসের ছেলে কালী দাস (৭২) ও ধুনট উপজেলার আনারপুর গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে শাহ্ জামাল (৩৪)। নিহত সিএনজি চালক ও অপর যাত্রীর পরিচয় পাওয়া যায়নি।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সূত্র জানায়, শুক্রবার সকালে বগুড়ার শেরপুর থেকে সিএনজি অটোরিকশা চালক তিন যাত্রী নিয়ে বগুড়া শহরের দিকে রওনা হন। ভোর ৬টার দিকে তিনি শাজাহানপুর উপজেলার মাঝিড়া এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে পৌঁছান। এসময় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা গাইবান্ধাগামী শাওন পরিবহনের একটি বাসের চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সিএনজি অটোরিকশাকে পেছন থেকে ধাক্কা দেন। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই তিন জন নিহত হন। খবর পেয়ে বগুড়ায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করেন।
আহত একজনকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। বগুড়া ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার বজলুর রশিদ জানান, তাৎক্ষণিকভাবে অটোরিকশার নিহত চালক ও এক যাত্রীর পরিচয় পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, সরকার ও আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বগুড়ায় দুটি মহাসড়কে থ্রি হুইলার চলাচল বন্ধ হয়নি। দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অসাধু সদস্যরা আর্থিক সুবিধা নিয়ে এসব অবৈধ যান চলাচলে সহযোগিতা করেন। গ্যাস তোলার অজুহাতে থ্রি-হুইলারগুলো দিনরাত মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়ায়। এতে মাঝে মধ্যেই দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে হাইওয়ে পুলিশ শেরপুর ক্যাম্পের ইন্সপেক্টর বানিউল আনাম জানান, সকাল ৮টা পর্যন্ত গ্যাস তোলার অনুমতি থাকলেও থ্রি-হুইলারগুলো নির্দেশ অমান্য করে সারাদিনই মহাসড়কে চলাচল করে থাকে। প্রায় প্রতিদিন ১৫-২০টাসহ গত মাসে ৩৫০টি থ্রি-হুইলার জব্দ করা হয়েছিলো। মালিকরা জরিমানা দিয়ে আবারও মহাসড়কে যাত্রী বহন করে থাকে। তিনি জানান, এসব অবৈধ যান ধ্বংস করার অনুমতি না থাকায় এদের রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।