২৫ মার্চ প্রথম প্রহরে একটি প্রদীপ জ্বালুন

0
0

একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনীর চালানো গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে ২৫ মার্চ প্রথম প্রহরে ভার্চুয়াল এক প্রদীপ প্রজ্জ্বলন কর্মসূচির আয়োজন হয়েছে।

সেই সঙ্গে একাত্তরের গণহত্যার ৫০তম বছর সামনে রেখে একটি উন্মুক্ত আলোচনার আয়োজন করেছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস স্ট্র্যাটেজি ফোরাম (আইসিএসএফ) এবং অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজ।

যার যার টাইম জোন অনুযায়ী ২৫ মার্চ রাত ১২টা ১মিনিটে এই প্রদীপ প্রজ্জ্বলন কর্মসূচি এবং একই দিনে ভার্চুয়াল আলোচনায় অংশ নিতে সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন আইসিএসএফের ট্রাস্টি ড. রায়হান রশিদ।

এই প্রদীপ প্রজ্জ্বলন কর্মসূচিতে শামিল হতে নিজ নিজ ফেইসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে নির্ধারিত সময়ে ফেইসবুক লাইভে এসে, অথবা আগে ধারণ করা ভিডিও/স্থিরচিত্রে একটি প্রদীপ কিংবা মোমবাতি জ্বালতে হবে। সেই ছবি বা ভিডিও পোস্ট করতে হবে #recognise1971genocide এবং #RecogniseBangladeshGenocide হ্যাশট্যাগের সাথে।

বাঙালির মুক্তির আন্দোলনের শ্বাসরোধ করতে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে এ দেশের নিরস্ত্র মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামের সেই অভিযানে কালরাতের প্রথম প্রহরে ঢাকায় চালানো হয় গণহত্যা।

২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যান; শুরু হয় বাঙালির প্রতিরোধ পর্ব।

নয় মাসের যুদ্ধে ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মদান, আড়াই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি এবং জাতির অসাধারণ ত্যাগের বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় চূড়ান্ত বিজয়। বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ নামের একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে।

সেই বাংলাদেশ আগামী ২৬ মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে পৌঁছাচ্ছে, আর তার আগের দিন পূর্ণ হচ্ছে ২৫ মার্চের সেই কালরাতের ৫০ বছর।

সেই দিনটি স্মরণে ২৫ মার্চ আইসিএসএফ এবং অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজ আয়োজিত মুক্ত আলোচনার বিষয় থাকছে ‘১৯৭১ এর গণহত্যার স্মরণ, এবং ১৯৭১ এর গণহত্যার বৈশ্বিক স্বীকৃতি অর্জনে কর্মসূচি নির্ধারণ’।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, সংসদে গণহত্যা দিবস প্রস্তাবক সাংসদ শিরিন আখতার, বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য ড. নমিতা হালদার, অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সুফিউর রহমান, এমিরেটাস অধ্যাপক (ম্যাককোয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়) ড. রফিকুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাম্মি আহমেদ, আইসিএসএফ ট্রাস্টি ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিন ও রায়হান রশিদ আলোচনায় অংশ নেবেন।

অনুষ্ঠানসূচিতে রয়েছে- শুভেচ্ছা বক্তব্য; গণহত্যার স্মরণে এক মিনিট নীরবতা; মোমবাতি/প্রদীপ প্রজ্জ্বলন; তথ্যচিত্র ‘Creed for Justice’ প্রদর্শন; আইসিএসএফ এর পক্ষ থেকে ‘গণহত্যার বৈশ্বিক স্বীকৃতি’ প্রসঙ্গে সুনির্দিষ্ট বক্তব্য উপস্থাপন; নির্ধারিত প্যানেল বক্তাদের বক্তব্য উপস্থাপন; মন্তব্য ও প্রশ্নোত্তর পর্ব। সমাপনী বক্তব্য দেবেন কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত ফ্যাকাল্টি সদস্য ড. মোহাম্মদ আলাউদ্দিন।

সঞ্চালনায় থাকবেন বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিজানুর রহমান ও কলামিস্ট ড. এজাজ মামুন। ফেইসবুকে এ আলোচনায় মতামত দেওয়া এবং প্রশ্ন করার সুযোগ সবার জন্য উম্মুক্ত থাকছে। (https://www.facebook.com/events/878750522913089/)।

বিভিন্ন টাইমজোন অনুযায়ী এ আলোচনার সময়সূচি ঠিক হয়েছে- ক্যানবেরা/ সিডনি/ মেলবোর্ন সময় রাত ৯টা; ব্রিসবেন সময় রাত ৮টা; ঢাকা সময় বিকেল ৪টা ও লন্ডন সময় সকাল ১০টা।

আইসিএসএফের ট্রাস্টি ড. রায়হান রশিদ নিজের ফেইসবুক পেইজে লিখেছেন, “১৯৭১ এর গণহত্যার বৈশ্বিক স্বীকৃতি বাস্তবায়নের দাবিতে অস্ট্রেলিয়ার সাতটি শহর থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় বসছেন ২৫ মার্চ।”

এ অনলাইন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে মতামত ও প্রশ্ন রাখার আহ্বান জানিয়ে আইসিএসএফের এর ট্রাস্টি বলেন, “গণহত্যার বৈশ্বিক স্বীকৃতি আন্দোলনের যে রূপরেখা অস্ট্রেলিয়ায় নির্ধারিত হতে যাচ্ছে, তা বিশ্বের সব শহর এবং দেশের ক্ষেত্রেই কমবেশি প্রাসঙ্গিক হবে বলে আমরা মনে করছি। এ উদ্যোগ ও আলোচনায় আপনার মতামত যেমন গুরুত্বের, তেমনি আপনার কাছে আমাদের প্রত্যাশা- বিশ্বের যে প্রান্তেই থাকুন না কেন, এতে নিজে শামিল হওয়ার পাশাপাশি পরিচিত সবাইকে উদ্বুদ্ধ করুন।”